দড়ি ধরে দেব টান, ফাঁসি দিয়ে নেব জান...

কখনো ধীর লয়ে, কখনো ধারালো কণ্ঠে, কখনোবা গগনবিদারী শ্লোগানে শাহবাগ চত্বর ভাসছে এক সুরে। শ্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে মুষ্টিবদ্ধ হাত যেন গুঁড়িয়ে দিতে চায় গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা আর কামরুজ্জামানদের ক্ষমতা। গভীর আবেগে মুছে দিতে চায় রাজাকারের গাড়িতে দেশের পতাকা ওড়ানোর লাঞ্ছনা। গতকাল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধপরাধীদের বিচার দাবিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে বাড়তে থাকে মানুষের অংশগ্রহণ, সঙ্গে শ্লোগানের কণ্ঠ। মূল মঞ্চে সকাল থেকেই শোনা যায় নানা ধরনের শ্লোগান- ‘দড়ি ধরে দেব টান/ফাঁসি দিয়ে নেব জান’, ‘নিজামী-মুজাহিদ ভাই ভাই/ এক রশিতে ফাঁসি চাই’, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার/রক্ত চোষা জানোয়ার’, ‘এমন রায়ে কাঁদছে চোখ/আমার না হয় ফাঁসি হোক’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই/কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়/কাদের মোল্লার ঠাঁই নাই’, ‘কাদের মোল্লার কবর হবে/পাকিস্তানের মাটিতে’, ‘কাদের মোল্লা রাজাকার/একটা করে লাথি মার’। তবে সব শ্লোগানের মধ্যেও সবার নজর কেড়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাকী আক্তার। শ্লোগানের সময় কেঁপে ওঠেন তিনি, কেঁপে ওঠে উপস্থিত জনতাও। জনস্রোতে প্রতিবাদের তরঙ্গ তোলে লাকীর নতুন নতুন শ্লোগান। শ্লোগানের সময় অগ্নিমূর্তি হয়ে ওঠেন যেন, মুখের পেশী কেঁপে কেঁপে ওঠাটাও সহজেই চোখে পড়ে। নিজেকে উজাড় করে সর্বশক্তি নিয়ে যখন শ্লোগান দেন তখন গোটা শাহবাগ শ্লোগানে কেঁপে উঠে। মূল মঞ্চ থেকে কিছুক্ষণ পরপর লাকীর কণ্ঠ থেকে ভেসে আসছে- ‘ক’তে কাদের মোল্লা/জবাই কর জবাই কর’, জামায়াত-শিবির রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়, ‘ফ-তে ফোকাস, জবাই কর জবাই কর, ই-তে ইসলামী ব্যাংক, জবাই কর জবাই কর’। কোনো ক্লান্তি নেই লাকির প্রতিবাদী কণ্ঠে, অবিরাম গর্জে উঠছেন তিনি। মনে করিয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশের নারী মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ-তিতীক্ষার কথা। লাকী বললেন, ‘খুনি-ধর্ষক কাদের মোল্লার ফাঁসি রায় না নিয়ে ঘরে ফিরব না।’