বিদেশে ‘লোক পাঠানোর’ হোতা গ্রেফতার
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:০৮
মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে লোক পাঠানো চক্রের প্রধান হোতাকে গ্রেফতার করেছে হযরত শাহজালাল (র:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ। জায়েদ হোসেন নামে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে ৭৬টি পাসপোর্ট ও একশ’ ভিসা স্টিকার উদ্ধার করা হয়েছে। মালয়েশীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা ভিসা স্টিকারের মুড়ি আসল বলে নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন রোহিঙ্গাসহ অবৈধভাবে যারা মালয়েশিয়ায় যেতে চায় তাদের জন্যই এসব পাসপোর্ট ও ভিসা স্টিকার তিনি নিয়ে এসেছিলেন।
বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাজিমুল হক ইত্তেফাককে বলেন, শনিবার ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছে। সব যাত্রী ইমিগ্রেশন শেষ করে চলে গেলেও জায়েদ হোসেন ইমিগ্রেশনে আসেন অনেক পরে। তার কথাবার্তা ও গতিবিধি সন্দেহ হলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে চ্যালেঞ্জ করে। তিনি অস্বীকার করলে তাকে কাস্টমসে নিয়ে যাওয়া হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে তার কাছে ২৩টি পাসপোর্ট বই পাওয়া যায়। এরপর তার অন্য ৩টি লাগেজ তল্লাশি করে ৭৬টি অবৈধ পাসপোর্ট বই ও স্টিকারের মুড়ি বই পাওয়া যায়। তাতে ১০০টি ভিসা স্টিকার রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাত্ক্ষণিকভাবে জায়েদকে গ্রেফতার করা হয়। জায়েদ বিদেশে অবৈধভাবে লোক পাঠানো চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা বলে মনে করা হচ্ছে। তাকে গ্রেফতারের পর বাংলাদেশস্থ মালয়েশিয়ান দূতাবাসে খবর দেয়া হলে তাদের একজন কর্মকর্তা ইমিগ্রেশনে গিয়ে নিশ্চিত করেন ভিসা স্টিকারগুলো আসল। এই স্টিকারের মুড়ি বইগুলো বিভিন্ন দূতাবাসে পাঠানো হয়। মালয়েশিয়ার সরকারি কোন চক্র এগুলো বের করে দিয়েছে। আর ৭৬টি পাসপোর্টের মধ্যে ১৩টি গলাকাটা পাসপোর্ট। যা কোনভাবেই দেখে বোঝা সম্ভব নয়। আর ৬৩টি পাসপোর্টে লাওসের ভিসা লাগানো। সেখানকার সরকারি চক্র এই ভিসা লাগিয়ে দিয়েছে।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জায়েদ স্বীকার করেছেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা তিনজন এই কাজ করছে। তিনি তাদের নাম, পরিচয়ও বলেছেন। এদের একজন বাংলাদেশি। দূতাবাসের মাধ্যমে খবর পেয়ে মালয়েশীয় পুলিশ তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে বলে দূতাবাস থেকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত জায়েদ হোসেনের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে। তাকে রোহিঙ্গা বলে সন্দেহ করছেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করবে স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইমিগ্রেশন বিভাগ ও সিআইডি যৌথভাবে। গত এক মাসে শতাধিক রোহিঙ্গা আটক করেছে ইমিগ্রেশন ও বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন।