যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪৩
অবশেষে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, সংক্ষুব্ধ হলে পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করার সুযোগ পাবে এ কথাটা আইনে সংযোজন করা হবে। আইনমন্ত্রী দেশে ফিরলে মন্ত্রিসভার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ সংশোধন করে তা পাসে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের একটি ধারার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের আপিল করার অধিকারকে হরণ করা হয়েছে। প্রচলিত আইনে নিম্নআদালতের যেকোন দণ্ডাদেশ কমানো বা বাড়ানোর বিষয়ে উচ্চতর আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে দণ্ড বাড়াতে সরকারের আপিলের কোন সুযোগ নেই।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবনসহ মোট ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে গণহত্যা ও ধর্ষণের সহায়তার তিনটি পৃথক অভিযোগে (অন্যের সহযোগী) একক দায়িত্ব হিসেবে মোট ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বর্তমানে দেশের প্রচলিত আইনে কোন মামলায় কারোর যদি যাবজ্জীবন বা অন্যকোন দণ্ড হয়, ওই দণ্ড বাড়ানোর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের আপিলের অধিকার রয়েছে। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যে দণ্ড দেয়া হয়েছে তাকে লঘু দণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এই দণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আপিল করার সুযোগ নেই।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধিত) আইনের ২১ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, যেকোন অপরাধে দোষী একজন ব্যক্তি এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ডিত একজন ব্যক্তি যেকোন সাজা ও দণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের অধিকার রাখে। খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সরকারের আপিলের অধিকার রয়েছে।
এখন সরকার আইন সংশোধন করে ট্রাইব্যুনালের যেকোন রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের এখতিয়ার রাখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রী দেশে ফেরার পর দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ত্রুটি নিয়ে ইত্তেফাকে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গতকালও ‘যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গুরুতর ত্রুটি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।