তারুণ্যদীপ্ত শাহবাগে বিজয়ের অপেক্ষা
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪৪
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে উদ্বেলিত বাংলার অপর নাম শাহবাগ, শাহবাগ। রাজধানীর শাহবাগ এখন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রেরণার বাতিঘর। জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে চলমান গণজাগরণে তরুণদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। আন্দোলনে শামিল হয়েছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ। অবস্থান কর্মসূচিতে জড়ো হচ্ছে নতুন নতুন মুখ। ব্লগার, অনলাইন এক্টিভিস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ছাত্র ও যুবনেতাদের সাথে যোগ দিয়েছেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। টানা পাঁচ দিনের মতো গতকাল শনিবারও শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনরতরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে না যাওয়ার শপথ নিয়েছেন শুক্রবারই। সেই শপথের নিশানা উড়িয়েই যেন গতকাল ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেন তারা। শপথের পতাকা হাতে নিয়ে বিজয়ের অপেক্ষা করছে জনতা। শুক্রবারের মহাসমাবেশের পর শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে এসেছে নতুন প্রাণের জোয়ার। উদ্যোক্তাদের মধ্যেও বেড়েছে উত্সাহ। তাই ঐদিন গভীর রাত এমনকি ভোর রাতেও থামেনি তারুণ্যের স্লোগান, সঙ্গীত। গতকাল ভোরের সূর্য যত আলো ছড়াচ্ছিল তেমনি অবস্থান কর্মসূচিতেও মানুষের উপস্থিতি বাড়ছিল। হাজারো মানুষের পদধ্বনিতে মুখরিত হয় শাহবাগ। সন্ধ্যায় গণসঙ্গীত এবং ৬ হাজার ৪০০ প্রজ্বলিত মোমবাতি সৃষ্টি করে অনন্য এক আবহ। সেই আবহে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দীপ্তিময় শপথ নেন উপস্থিত কিশোর-তরুণ-যুবারা। আন্দোলনরতরা বলছেন, আমাদের দাবি সারা বাংলার দাবি। এ দাবি বাস্তবায়ন করে, বিজয়ী হয়েই ঘরে ফিরব।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করলে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে দেশের সকল স্তরের মানুষ। রাজধানীসহ বিভিন্নস্থানে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় রায় পুনর্বিবেচনার দাবিতে দুপুরেই বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করে ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। বিকাল তিনটায় ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের উদ্যোগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশই এখন শাহবাগ মোড়ে ‘গণজাগরণ মঞ্চে’ পরিণত হয়েছে।
আসছেন সব বয়সের মানুষ
গতকাল দিন যত গড়াচ্ছিল সমাবেশে মানুষের উপস্থিতিও বাড়ছিল। এক পর্যায়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে শাহবাগ মোড়। হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে সন্ধ্যা নাগাদ চত্বরের ব্যাপ্তি ছড়ায় দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, উত্তরে রূপসী বাংলা হোটেল, পশ্চিমে আজিজ সুপার মার্কেট, পূর্বে শিশু পার্ক পর্যন্ত।
গতকাল অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, সিটি কলেজ, তিতুমির কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ, ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে যোগ দেয় স্কুল পড়ুয়া বহু শিক্ষার্থী।
মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র রিয়াদ বললেন, কয়েকদিন ধরেই টেলিভিশনে ও পত্রিকায় গণজাগরণের সংবাদ দেখছিলাম। আন্দোলন ভালো বুঝি না। কিন্তু যে দাবিতে এ আন্দোলন চলছে তাতে একাত্মতা জানানোর তাগিদ অনুভব করছিলাম গত বুধবার থেকেই। তাই আজ বন্ধুদের সাথে এখানে এসেছি। স্লোগান দিয়েছি। গান গেয়েছি।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন সব বয়সের ও পেশার মানুষ। টানা পাঁচদিনের চলমান আন্দোলনের পরও স্লোগানের তেজ কমেনি এতটুকুও। রিকশাচালক আবদুল কাদের বিকালে ভাঙা গলায় বললেন, আজ সারাদিন রিকশা চালাইনি। রাজাকার কাদের মোল্লার সাথে আমার নামের মিল রয়েছে। এ জন্য লজ্জা লাগছে। রাজাকারদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে সেই ঝাল মেটাচ্ছি।
তরুণদের আন্দোলনের সাথে সংহতি জানানো অব্যাহত রেখেছেন দেশের রাজনীতিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ। গতকালও আন্দোলনে সংহতি জানাতে শাহবাগে উপস্থিত হয়েছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য কাজী সালাউদ্দীন, তানভীর মাজহার ইসলাম তান্না।
সংহতি জানিয়ে গতকাল দুপুরে গণজাগরণ মঞ্চে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমীর সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণসমাজ দেশকে ভালোবেসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে যে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তার জন্য তাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি নতুন দিনের সূর্যোদয়। তরুণসমাজ অন্তরের সৌন্দর্য ও শক্তি দিয়ে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তা শ্রদ্ধার যোগ্য। বাংলাদেশের মানুষ তরুণদের দিকে তাকিয়ে থাকবে। দেশকে সমস্ত অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাবে তরুণরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ আজ গোটা জাতির স্লোগানে পরিণত করেছে তরুণরা। তরুণদের কাছে মাথানত করি। যা কিছু সম্ভাবনা, তার সবকিছু তরুণদের মধ্যে নিহিত।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো যুদ্ধাপরাধী থাকবে না, কোনো রাজাকার থাকবে না। এখানে থাকবে শুধু ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অন্য কোনো স্লোগান নয়।
৬ হাজার ৪০০ মোমবাতি, আলোকিত বাংলাদেশ
গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগের সড়কে ৬ হাজার ৪শ মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে এ মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। নতুন প্রজন্মের ব্যানারে একটি সংগঠনের তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর অন্যতম উদ্যোক্তা জহিরুল হক বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি নিশ্চিত হলে এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সহজেই বাস্তবায়িত হবে। ধর্মকে ব্যবহার করে অশুভ উন্মাদনা বন্ধ হবে। শাহবাগে এ স্বপ্ন এবং চেতনাকে ধারণ করেই তরুণরা একত্রিত হয়েছেন। দেশের ৬৪টি জেলায় অসাম্প্রদায়িক ও আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় প্রতি জেলার প্রতীক হিসেবে ১০০টি করে মোট ছয় হাজার ৪০০ মোমবাতি প্রজ্বলন করা হলো। সারা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত হবে এ প্রত্যাশায় এক মোমবাতি প্রজ্বলন।
এছাড়া খণ্ড খণ্ডভাবে আন্দোলনরতরা বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত হয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করে মিছিল করে। অনুষ্ঠিত হয় মশাল মিছিলও।
গণসঙ্গীতে নবজাগরণ
গতকাল দিনভর শাহবাগে মূল মঞ্চে নিয়মিত বিরতিতে চলে গণসঙ্গীত। সন্ধ্যায় গণসঙ্গীত গাইতে মঞ্চে ওঠেন শিল্পী ফকির আলমগীর। তিনি শাহবাগ নিয়ে নতুন একটি গান তৈরি করেন এবং মঞ্চে গেয়ে শোনান। ‘ভয় নেই আজো আছি মোরা একসাথে শাহবাগে ...’ শিরোনামে তার গানের সাথে কণ্ঠ মেলান হাজারো কণ্ঠ। এরপর আরো কয়েকটি গান পরিবেশন করেন তিনি। সব গানের শেষেই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দাবি করা হয়।
স্লোগানে স্লোগানে দাবি
‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’, ‘সারা বাংলা ঘেরাও করো, জামায়াত-শিবির খতম করো’, ‘আমাদের ধমনিতে শহীদের রক্ত, এই রক্ত কোনো দিনও বৃথা যেতে দেব না’- এমন নানা স্লোগানে গতকালও শাহবাগ এলাকা ছিল প্রকম্পিত। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্লোগানে সরব থাকেন আন্দোলনকারীরা। সমবেত কণ্ঠে স্লোগান ওঠে জয় বাংলা, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘সামপ্রদায়িকতার আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘সারা বাংলার অপর নাম শাহবাগ, শাহবাগ’, ‘বাংলাদেশের আরেক নাম- শাহবাগ শাহবাগ’, ‘জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো’, ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা, পাকিস্তানেই ফিরে যা’, ‘বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াত-শিবিরের ঠাঁই নাই’, ‘আর কোনো দাবি নাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’; ‘জামায়াতে ইসলাম, মেড ইন পাকিস্তান’; ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’, ‘সারা বাংলার মোহনা, শাহবাগ শাহবাগ’, ‘রক্ত দেব, জীবন দেব, রাজাকারদের ফাঁসি দেব’। আর এ আন্দোলনে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগান নিয়মিত বিরতিতে উচ্চারিত হয়- ‘ক-তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’, ‘ক-তে কামারুজ্জামান, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’, ‘গ-তে গোলাম আযম, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’, ‘ম-তে মুজাহিদ, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’, ‘ন-তে নিজামী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’, ‘স-তে সাঈদী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’।
খণ্ড খণ্ড আয়োজন, এক দাবি
শাহবাগে চলমান আন্দোলনে শুরু থেকেই সরব দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল ও ক্রিয়াশীল সংগঠন। নিজস্ব রীতিতে সবাই পৃথক পৃথকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। তবে সকলের দাবি একটাই- ‘কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই’। শাহবাগে দুপুর একটার দিকে পতাকা মিছিল করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। ‘শিল্পী সমাজ’ চারুকলার মূল ফটকের সামনে বক্তৃতা ও গানে মাতিয়ে রাখেন। চারুকলা ও গণগ্রন্থাগারের মধ্যবর্তী সড়কে নাটক মঞ্চস্থ ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘তীরন্দাজ’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। স্লোগান তুলে ও বক্তৃতার মাধ্যমে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকালে সরব ছিল এক্স ক্যাডেটস ফোরাম। কাঠের তৈরি একটি প্রতীকী কারাগার তৈরি করে সঙ্গীত পরিবেশন করে তরুণদের একটি দল। থিয়েটার গ্রুপ মঞ্চস্থ করে নাটক এবং সঙ্গীতানুষ্ঠানে মাতিয়ে রাখে গণগ্রন্থাগারের সামনের এলাকা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগ্রেসিভ স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন মানববন্ধন করে। স্লোগান তোলেন এ সংগঠনের কর্মীরাও। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার সঙ্গীত আয়োজনে মুগ্ধ করেন উপস্থিত জনতাকে। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ করেন অনেকেই। যেমনি জাদুঘরের সামনের সড়কে ‘ঘৃনা জাগিয়ে থুতু ফেলুন’ ব্যানার টাঙিয়ে প্রতিবাদ জানান এক ব্যক্তি। আর ঐ ব্যানারে থুতু ফেলেন অনেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য এবং কলা ভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলার দণ্ডায়মান মূর্তিগুলোর চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ক্লান্ত শরীর, জাগ্রত মন
টানা পাঁচ দিনের আন্দোলনে শারীর দুর্বল হলেও প্রাণের উচ্ছ্বাসে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি আন্দোলনকারীদের। গতকাল দুপুরে স্লোগান দিতে দিতেই অচেতন হয়ে পড়েন এক তরুণ। পরে তাকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিত্সা দেয়া হয়। আরো কয়েকজন দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের স্লোগানেও ভাটা পড়েনি বিন্দুমাত্র।
স্নেহ-ভালোবাসার পরশ
শাহবাগে আন্দোলনরত তরুণদের সাথে শুধু সংহতিই জানাননি দেশের আপামর মানুষ। তাদের উপর ভালোবাসা এবং স্নেহের পরশ বুলিয়েছেন আগত নানাশ্রেণীর মানুষ। কেউ বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসেন তরুণদের জন্য। কেউ নিয়ে আসেন ফল ও পানি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ) শাহবাগ এলাকায় স্থাপন করেছে মোবাইল টয়লেট। ঢাকা ওয়াসা নিয়ে এসেছে পানির গাড়ি। বিভিন্ন সংগঠন বিনামূল্যে দিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য সহযোগিতা, স্যালাইন। নানান বয়সী মানুষের ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এ সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আন্দোলনরত তরুণরা।