রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বিচারকরা রায় দিতে পারছেন না :মওদুদ
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪৭
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি বলেছেন, দেশে স্বৈরতন্ত্রের আমলে একরকম আর গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে আরেক রকম রায় হয়। আজকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বিচারকরা নিজের ইচ্ছামতো রায় দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, যে রায় বাস্তবায়ন করা যায় না সে রায় না দেয়াই ভালো। আদালতের মূল কাজ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এমন কোন রায় দেয়া উচিত নয় যাতে সমাজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গতকাল সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘আইনের শাসন ও বিচারবিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির ভাষণে ব্যারিস্টার মওদুদ একথা বলেন। ন্যাশনাল ফোরাম প্রটেকশন অব হিউম্যান রাইটস এ সেমিনারের আয়োজন করে। বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অধ্যাপক তারেক শামসুর রহমান, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, এডভোকেট টিএম আকবর হোসেন প্রমুখ।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের আমলে বিচার ব্যাবস্থা পুরোপুরি সরকারের করায়ত্তে ছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বিচার ব্যবস্থা করায়ত্ত করবার চেষ্টা করছে। আমরা পেছনে যেতে চাই না। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের আমলে বিচার বিভাগ যে অবস্থায় ছিলো এখন তার চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। আজকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বিচারকরা নিজের ইচ্ছামতো রায় দিতে পারছেন না। এর থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো দেশে গণতন্ত্র রক্ষা করা। তার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হলো আগামী নির্বাচন যেন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হয় তা নিশ্চিত করা, যাতে মানুষ যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারে। তিনি বলেন, এই সুপ্রিম কোর্টকেও যদি নিরপেক্ষ করতে চাই তাহলে আগামী নির্বাচন কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হতে হবে।
এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বর্তমান যে অবস্থা তাতে বিচার বিভাগ ধ্বংস হতে চলেছে। বিচারক কিভাবে রায় দেবেন তা রাস্তায় ঠিক করে দেয়া হচ্ছে। রাস্তায় ফাঁসির রায় দিয়ে দেয়া হলে আইন আদালতের আর কি কোন প্রয়োজন আছে? তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার আমিও চাই। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিচারের নানা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্বচ্ছ আর আন্তর্জাতিক মানের না হলে তা কোনদিন গ্রহণযোগ্য হবে না। আন্তর্জাতিকভাবে এই ট্রাইব্যুনালের কোন স্বীকৃতি নেই। আজকে শাহবাগের তরুণরা যে শ্লোগান দিচ্ছে তা বাস্তবায়ন হবে যদি জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়।
অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, কদিন ধরে শহবাগে যে নাটকীয়তা তা স্বতঃস্ফূর্ত বলে মনে হয় না। এটি ম্যানেজড এবং অরগানাইজড বলেই মনে হয়। বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। গত চার বছরে যে দিকে তাকানো যায় সবই ব্যর্থতা। শেয়ারবাজার, হলমার্ক, পদ্মা সেতু দুর্নীতি এখন এ বিষয়গুলো থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে অন্যদিকে নিয়ে আসা ছাড়া আর কিছুই নয় এই প্রতিবাদ।
এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, শুনেছি বিচারের বাণী নিরবে কাঁদে। এখন দেখছি পুরো বিচার ব্যবস্থা নিভৃতে কাঁদে।