‘জামায়াত শিবির রাজাকার এ মুহূর্তে বাংলা ছাড়’
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫০
চট্টগ্রামের জামালখান সড়ক প্রেসক্লাব চত্বরে গতকাল শনিবার চতুর্থ দিনের মতো সমবেত জনতার কণ্ঠে গগণবিদারী শ্লোগান উঠেছে, ‘জামায়াত শিবির রাজাকার/এ মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘ধর রাজাকার মার রাজাকার/তুই রাজাকার তুই রাজাকার’, ‘তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘রাজাকারের রক্ষা নাই/এ মুহূর্তে ফাঁসি চাই’।
গতকাল বৃহত্তর চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর হরতাল আহবানের প্রতিবাদে এবং আবদুল কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের আশু ফাঁসির দাবিতে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ফুঁসে ওঠে চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্ম। সর্বস্তরের জনসাধারণ জামালখান প্রেসক্লাব চত্বরে সকাল ১০টায় তাদের প্রতিবাদী সমাবেশে এসে সমবেত হতে থাকেন। শ্লোগানে শ্লোগানে, রাজাকারদের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে রচিত কবিতায়, মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালির জাগরণের গান ও গণসঙ্গীতে গতকাল চতুর্থ দিনের মতো উত্তাল হয়ে উঠে চট্টগ্রামের জামালখান চত্বর। দলমত নির্বিশেষে প্রেসক্লাব অভিমুখে অসংখ্য মিছিলে শত শত প্রতিবাদী জনতা এসে সমবেত হতে থাকে। সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক এসে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশ করেন রাজিব নন্দী।
চট্টগ্রামে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণের অন্যতম উদ্যোক্তা সাংবাদিক নাজিমুদ্দিন শ্যামল ইত্তেফাককে জানান, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত এই সর্বস্তরের জনতার এই আন্দোলন চলতেই থাকবে। এখানে কোন দলীয় ভাষ্য বা রাজনীতিতে আসতে দেয়া হবে না। এখানে উচ্চারিত হবে শুধু জনগণের হূদয়ের বাণী। তিনি তথ্য প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখান প্রেসক্লাব চত্বর, মেহেদীবাগ গোলপাহাড় চত্বর এবং শ্রমিক অধ্যুষিত শেরশাহ এলাকায় যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শুরু হয়েছে জনতার প্রতিবাদী কর্মসূচি। গত শুক্রবার শেরশাহ কলোনী এলাকায় শত শত শ্রমিক জনতা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শ্রমিক-জনতা শ্লোগান ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তুলে আবদুল কাদের মোল্লার বিচারের রায়কে প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দেয়। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং বাংলাদেশকে রাজাকার মুক্ত না করা পর্যন্ত তারা এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখার শপথ ব্যক্ত করে।
জামালখান প্রেসক্লাব চত্বরে জনতার প্রতিবাদী কর্মসূচির অন্যতম উদ্যোক্তা সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস জানান, গতকাল শনিবারও কর্মসূচি মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন এই কর্মসূচি শুরু হবে বিকাল ৩টা থেকে। গতকাল প্রতিবাদী তরুণ ও সর্বস্তরের জনতা জামালখান চত্বর থেকে জামায়াতের আহূত হরতালকে প্রত্যাখ্যান করে একটি মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যায়। সেখান থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ফিরে আসে জামালখান চত্বরে। দুপুরে প্রতিবাদী সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।
নগরীর গোলপাহাড় মেহেদীবাগ চত্বরে চারুশিল্পীরা আলপনা, ফাঁসির মঞ্চ ও সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্ব্বলন করে তাদের প্রতিবাদী কর্মসূচিকে আরো বিস্তৃত করে তুলেছে। যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি ঘৃণা জ্ঞাপনের স্মারক হিসাবে সেখানে তারা সকল শিল্পীর এক সাথে ছবি আঁকার জন্য সম্মিলিত ক্যানভাস স্থাপন করেছে। শিল্পী আহমেদ নেওয়াজ, চারুকলা ইনস্টিটিউট ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিকৃতি অংকন করে তাদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছে।