জুমার নামাজে ইমামতি করা হলো না হাফেজ হাফিজুরের

দাউদকান্দির মহেশমারী গ্রামের বেপারীবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মোঃ হাফিজুর রহমানকে ২ দিনেও উদ্ধার করা যায়নি। সহকর্মী ও আত্মীয়-পরিজনরা তার সন্ধানে নদীর তীরে এবং ট্রলারযোগে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রেখেছেন। তার সাথে লঞ্চে থাকা সহকর্মী হাফেজ মোঃ শফিকুল ইসলামও বন্ধুর সন্ধানে নদীর তীরেই রয়েছেন। হাফিজুর রহমান গত শুক্রবারের আগের শুক্রবার মসজিদে জুম্মার নামাজের ইমামতি করে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কলবাড়িয়ায় যান। বাড়ি থেকে তিনি ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জে কালির বাজার এলাকার আত্মীয়ের বাসায় রাত কাটান। পরদিন শুক্রবার নিজ মসজিদের জুম্মার নামাজ পড়ানোর উদ্দেশ্যে সকাল ৭টার লঞ্চে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে এম এল সারস লঞ্চে রওনা হন দুই বন্ধু মিলে। কিন্তু পথিমধ্যে গজারিয়ার ইসমানির চর এলাকায় বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চডুবিতে তিনি নিখোঁজ হন। বেঁচে যাওয়া তার বন্ধু হাফেজ সফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, দুর্ঘটনার আগ-মুহূর্তে তিনি কেবিন থেকে বের হয়ে লঞ্চের ছাদে গিয়েছিলেন। তিনি সাঁতরে একটি বস্তা ধরে বেঁচে গেলেও তার বন্ধুর এখনও কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। শনিবার সকালে লঞ্চটি উদ্ধারের পর ভিতর থেকে তার ব্যবহূত ব্যাগ উদ্ধার হলেও তাকে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন সহকর্মীরা। তার একমাত্র সন্তান সুমাইয়াকে (৬) নিয়ে স্ত্রী মাসুরা (২৫) এখন দিশেহারা। এদিকে তাদের আরেক সহকর্মী উত্তর মতলবের কালীপুরা স্কুল এন্ড কলেজের ধর্মীয় শিক্ষক এবং স্থানীয় চন্দ মসজিদ সংলগ্ন মাঠে ওয়াজ মাহফিলে বক্তা হিসেবে ওয়াজ শেষ করে যাওয়ার পথে লঞ্চ ডুবিতে নিহত হন।