এলপি গ্যাসে অসাধু চক্র

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) উত্পাদিত এলপি গ্যাসের প্রতিটি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ৭০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও দেশের কোথাও এ দামে এলপি গ্যাস পাওয়া যায় না। এ গ্যাস কিনতে সাধারণ মানুষকে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়। এভাবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ দামে এলপি গ্যাস কিনে প্রতিবছর প্রায় ১৬০ কোটি টাকা গচ্চা দিচ্ছেন গ্রাহকরা। সাধারণ মানুষের গলা কেটে এই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সারাদেশে নিযুক্ত এলপি গ্যাসের অসাধু ডিলাররা। বিপিসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেডের দুইটি প্ল্যান্টে (চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও সিলেটের কৈলাশটিলা) প্রতিবছর ২০ হাজার টন এলপি গ্যাস উত্পাদিত হয়। চার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে এ গ্যাস বিপণন করা হয়। ২০ হাজার টন গ্যাস বিপণন করতে প্রয়োজন পড়ে ১৬ লাখ সিলিন্ডার (প্রতি সিলিন্ডারের ধারণক্ষমতা ১২ দশমিক ৫ কেজি)। বিপণনকারী চার কোম্পানি তাদের নির্ধারিত ডিলারদের কাছে এলপি গ্যাস বিক্রি করে প্রতি সিলিন্ডার ৬৬৯ টাকা হারে। ডিলারদের জন্য প্রতি সিলিন্ডারে ৩১ টাকা লাভ ধরে এলপি গ্যাসের সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে ৭০০ টাকা। অথচ অসাধু ডিলাররা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে একেকটি সিলিন্ডারের জন্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসে ৩১ টাকা লাভ করার কথা থাকলেও ডিলারদের লাভের অঙ্ক ১ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। হিসাবে দেখা যায়, প্রতি বছর সারাদেশে ১৬ লাখ সিলিন্ডার বিক্রি করে সরকারের কোষাগারে মাত্র ১০০ কোটি টাকার কিছু বেশি জমা হলেও খুচরা বিক্রেতারা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রায় ১৬০ কোটি টাকা।