শাহবাগের ঘটনাপ্রবাহ রাজনীতিকদের জন্য সতর্কবার্তা :মোর্শেদ খান

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা এম মোর্শেদ খান বলেছেন, শাহবাগের চলমান ঘটনা প্রবাহ দেশের রাজনৈতিক নেতাদের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। রাজনীতিকদের বুঝতে হবে যে, রাজনৈতিক নেতাদের ওপর জনগণের কি ধরনের আস্থাহীনতা দেখা দিলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আসলে এটি রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আস্থাহীনতারই পরিচয় বহন করে। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি :সাম্প্রতিক গতিধারা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএফএসডি) নামের একটি সংগঠন। সিএফএসডির মহাসচিব সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ন কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসীন প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সিএফএসডির সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম আনওয়ার হাশিম। আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খান আরো বলেন, গতবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে পার্বত্য শান্তি চুক্তি ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি করতে পারলো। কিন্তু এবার তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি করতে এত বিলম্ব হচ্ছে কেন? তিনি বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতি এখন ‘একটিমাত্র ছাতার নিচে’র নীতিতে চলছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে স্বতন্ত্র কূটনীতির। আর অর্থনৈতিক কূটনীতি প্রাধান্য পেলে আগামী দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যেতে পারে। মূল প্রবন্ধে সাবেক কূটনীতিক এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পর্যন্ত ভালো ছিল। এরপর কূটনীতিতে ছন্দপতন ঘটেছে। অধ্যাপক আমেনা মহসীন বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতি নিয়ে কথা বলতে গেলে দেখতে হবে সরকার প্রকৃতপক্ষে কি চাইছে? বিদেশের সঙ্গে কেবল সম্পর্ক রক্ষা করাটাই কূটনীতি নয়। কূটনীতির জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে এবং নির্দিষ্ট কৌশলে সেটার বাস্তবায়ন করতে হবে।