পাওনা আদায়ে সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করবে ৩৬ ব্যাংক

পাওনা টাকা আদায়ে সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করবে ৩৬ ব্যাংক। আর মামলার প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যে লিগ্যাল নোটিসও দিয়েছে কয়েকটি ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে সোনালী ব্যাংক পাওনা পরিশোধ না করায় ব্যাংকগুলো এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের হোটেল শেরাটন শাখার কাছে পাওনাদার ব্যাংকের সংখ্যা ৩৬ এ দাঁড়িয়েছে। এসব ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের কাছে পাবে এক হাজার ৩১৪ কোটি ৬৫ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৫ টাকা। পাওনাদারের এ তালিকায় রয়েছে সোনালীসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক খাতের ৪টি, বিশেষায়িত ২টি, বেসরকারি খাতের ২৫টি এবং বিদেশি মালিকানার ৫টি ব্যাংক। অভ্যন্তরীণ বিলে (আইবিপি) স্বীকৃতি দেয়ায় অন্য ব্যাংকের কাছে এসব দেনা হয়েছে সোনালী ব্যাংকের। বিল বিক্রির বেশিরভাগের অনুকূলে নিজ-নিজ ব্যাংকের শাখায় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট রয়েছে। গত ২ জানুয়ারি ১৫ দিনের মধ্যে অন্য ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে সোনালী ব্যাংককে ১৫ দিন সময় দিয়েছিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। দুদকের আপত্তিতে পরে ওই অর্থ পরিশোধ না করতে সোনালী ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশের পর এসব ব্যাংক অর্থ আদায়ে মামলা করার মতো কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে, পাওনা আদায়ে রূপালীসহ কয়েকটি ব্যাংক এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংককে লিগ্যাল নোটিস দিয়েছে। টাকা আদায় না হলে খুব শিগগিরই বাকি ব্যাংকগুলোও নোটিস দেবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস-চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, গ্রাহকদের চাপে ব্যাংকগুলো এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। তবে সোনালী ব্যাংক যেহেতু বিলে স্বীকৃতি দিয়েছে তাই বিল পরিশোধের দায়িত্বও তাদের। তারা বলছে এর মধ্যে ভুয়া বিল আছে যা পরীক্ষা করার জন্য অন্য এজেন্সি কাজ করছে। সোনালী ব্যাংকও এজন্য আলাদা একটি কমিটি করেছে। অন্যদিকে মামলা করলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা নষ্ট হবে। আস্থা নষ্ট হলে ব্যাংকিং সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই আমরা চাচ্ছি মামলা ছাড়া যাতে বিষয়টা সুরাহা হয়। সুরাহার জন্য সোনালী ব্যাংককে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। সোনালী ব্যাংকের কাছে সব চেয়ে বেশি টাকা পাবে জনতা ব্যাংক। এই ব্যাংকের পাওনার পরিমাণ ৩১৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংক পাবে ২৬৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক পাবে ৯৯ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখার কাছে অন্য শাখা পাবে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংক পাবে ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশি পাওনা রয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ১০৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক পাবে ৯৩ কোটি ১৭ লাখ, যমুনা ৪৯ কোটি ৪৫ লাখ, সাউথইস্ট ৩৩ কোটি ৪৮ লাখ, ওয়ান ব্যাংক ২৭ কোটি, ন্যাশনাল ২৫ কোটি ৭৮ লাখ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ২৫ কোটি ১২ লাখ, এনসিসি ২৪ কোটি ৯ লাখ, উত্তরা ২১ কোটি ৭৬ লাখ, মার্কেন্টাইল ২১ কোটি ৩৩ লাখ, আল-আরাফাহ ইসলামী ২০ কোটি ৪৫ লাখ, ডাচ-বাংলা ১৮ কোটি ৪৪ লাখ, পূবালী ১৬ কোটি ৪৫ লাখ, ব্যাংক এশিয়া ১২ কোটি ৭০ লাখ, ইসলামী ব্যাংক ১৪ কোটি ৯১ লাখ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ১৩ কোটি ৭৭ লাখ, প্রিমিয়ার ১২ কোটি ৭৮ লাখ, ব্র্যাক আট কোটি ৮ লাখ, সিটি ব্যাংক সাত কোটি ১৮ লাখ, এবি ব্যাংক চার কোটি ৯২ লাখ, এক্সিম ৪ কোটি ৮৩ লাখ, আইএফআইসি ৩ কোটি ৮১ লাখ, প্রাইম ৩ কোটি ৪১ লাখ, ঢাকা ব্যাংক ২ কোটি ৭৫ লাখ এবং ট্রাস্ট ব্যাংক পাবে ২১ লাখ টাকা। বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর মধ্যে এইচএসবিসি ব্যাংকের পাওনা রয়েছে ১৪ কোটি ৪১ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ৭ কোটি ৯৫ লাখ, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ২ কোটি ৭৭ লাখ, ব্যাংক আল-ফালাহ ২ কোটি ১৮ লাখ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।