ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্যা গা র্ডি য়া ন’

ধ্রুপদী নারী

শত বাধা বিপত্তি আর অন্ধকারকে উপেক্ষা করে কলমকে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, চলমান বিশ্বে নারীদের অবস্থানকে মজবুত করতে ধ্রুপদীর ন্যায় আলোক দুত্যিপূর্ণ নারীদের নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্যা গার্ডিয়ান’ পত্রিকা শতজন ধ্রুপদী নারীর একটি তালিকা তৈরি করেছেন যাদের মধ্যে— মায়া এ্যাঞ্জেলু, জুডিথ বাটলার, মার্গারেট অ্যাটউড ও ক্যারল এ্যন ডাফি উল্লেখযোগ্য। লিখেছেন— মরিয়ম চম্পা মার্গারেট অ্যাটউড শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মার্গারেট অ্যাটউড কানাডিয়ান কবি এবং ঔপন্যাসিক। পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে তিনি সদা সচেতন এবং পরিবেশ আন্দোলনের একজন সক্রীয় কর্মী। কথা সাহিত্যের ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ে সন্মানিত লেখকদের মধ্যে তিনি একজন। মার্গারেট আর্থার সি ক্লার্ক পুরস্কারের পাশাপাশি সাহিত্যের উপর ‘প্রিন্সেস অফ অস্ট্ররিয়াস’ পুরস্কার লাভ করেন তিনি। মার্গরেট বুকার পুরস্কার পেয়েছেন মোট পাঁচ বার। এছাড়াও সপ্তমবার চূড়ান্তভাবে মনোনীত হন গভর্নর জেনারেল পুরস্কারের জন্য। মার্গারেট ‘ট্রাস্ট অফ কানাডা’র প্রতিষ্ঠাতা। এটি একটি অলাভজনক সাহিত্য সংগঠন হিসেবে পরিচিত। এই সংগঠন কানাডার সর্বস্তরের লেখক সম্প্রদায়কে উত্সাহিত করে থাকে। একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে মার্গারেটের যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। মার্গারেটের রূপকথার উপর লেখা উপন্যাসটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে যেখানে লাখ লাখ পাঠকের সাড়া মিলেছে সমান্তরাল ভবিষ্যতের জৈবিক নিয়তিবাদ এবং লিঙ্গ বৈষম্য সংক্রান্ত বিষয়ের উপর। বইটি মূলত বিশ্বের নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সতর্কীকরণধর্মী উপন্যাস। এই উপন্যাসটি আফগানিস্তানে তালিবান শাসন ব্যবস্থার বাহুল্যতা রোধে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল। --- মায়া এ্যাঞ্জেলু ধ্রুপদী নারীদের মধ্যে শীর্ষে থাকা মায়া এ্যাঞ্জেলুর জন্ম ১৯২৮ সালের ৪ এপ্রিল। আমেরিকান মায়া এ্যাঞ্জেলু লেখক এবং কবি। তিনি ছয়টি আত্মজীবনী, বেশ কয়েকটি কবিতার বইসহ নাটক, সিনেমার স্ক্রীপ্ট লিখেছেন এবং টেলিভিশন শোতে অংশগ্রহণ করেছেন। এ্যাঞ্জেলু ডজন খানিক এ্যাওয়ার্ডের পাশাপাশি ৩০টি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। শৈশব থেকেই এ্যাঞ্জেলুর মেধা প্রকাশ পায়, যার ফলে ধ্রুপদী নারী হিসেবে সবার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। ৮৫ বছর বয়সী এ্যাঞ্জেলুর আফ্রো আমেরিকান অভিজ্ঞতা থেকে লেখা ছয়টি আত্মজীবনীমূলক বই প্রকাশিত হয়েছে, যা চলমান নিউইর্য়ক টাইমসের সর্বাধিক বিক্রিত তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে আছে। কিশোরী বয়সে এ্যাঞ্জেলু তার মায়ের প্রেমিক দ্বারা সম্ভ্রমচ্যুত হন। সেই ঘটনা তার মনে গভীর দাগ কাটে এবং আজীবন তিনি নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে আসছেন। --- জুডিথ বাটলার আমেরিকান দার্শনিক জুডিথ বাটলার একাধিক কৃতিত্বের অধিকারী। তিনি নারীবাদী দর্শন, আনকা তত্ত্ব, রাজনৈতিক দর্শনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। বাটলার ১৯৮৪ ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনের উপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অলঙ্কারশাস্ত্র সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। ১৯৮০ সালের শেষের দিকে বাটলার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান চালু করেন, যেখানে পশ্চিমা নারীবাদী তত্ত্বের নারীবাদ সংক্রান্ত প্রশ্ন জড়িত ছিল। এটিই পরে বাটলারকে সবচেয়ে প্রভাবশালী ধ্রুপদী নারীবাদী তাত্ত্বিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। ৫৭ বছর বয়সী বাটলারের সবচেয়ে বিখ্যাত লেখাটি প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে। ওই লেখাটি লিঙ্গ বৈষম্যের উপর গবেষণাধর্মী একটি লেখা। বাটলার তার এক বক্তৃতায় বলেন, তুমি মানুষ হিসেবে নিজে নিজে কিছু একটা কর, অন্যথায় তোমার জন্মের সার্থকতা কোথায়। বাটলারের আসক্তিপূর্ণ বাচন ও শব্দশৈলি পাঠকদের ব্যাপকভাবে বিমোহিত করে, যা পাঠকদের চিন্তাশক্তির উদ্দীপক হিসেবে ভূমিকা রাখে।