এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮৫ শতাংশ

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ফেতর না দেবার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। আর বিতরণ করা ঋণ আদায় করতে না পারায় লোকসানে পড়ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। লোকসানে পড়ায় নতুন করে ঋণ বিতরণ করার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এতে ব্যাংকিং খাতে সৃষ্টি হচ্ছে অচলাবস্থার। চলতি অর্থ বছরের (২০১২-১৩) ডিসেম্বর শেষে আগের অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় খেলাপি ঋণ ৮৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিবরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, গত ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে সবগুলো ব্যাংক মিলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪২ হাজার কোটি টাকার উপরে চলে গেছে। অথচ এর আগের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। এতে গত এক বছরের ব্যবধানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিক সেপ্টেম্বর শেষে যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাত্ চলতি অর্থ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল বিতরণ করা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে তা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ার দিক দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো রয়েছে সবচেয়ে এগিয়ে। সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। অথচ ডিসেম্বর শেষে এ চার ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকার উপরে। যা আগের বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ১২৫ শতাংশ বেশি। খেলাপি ঋণ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ডিসেম্বর মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের বার্ষিক হিসাব বা ব্যালেন্স শীট তৈরি করে। বছর শেষে ঋণ আদায় অপেক্ষাকৃত জোরদার থাকায় সে সময় খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি অন্যান্য প্রান্তিকের চেয়ে ভাল হয়। এজন্য মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। তবে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বাড়ায় সার্বিকভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হল-মার্কসহ নানান আর্থিক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে বলে জানান তিনি।