২৫ ঘন্টা আলোচনার পর ইইউ’র বাজেট নির্ধারণ

২৫ ঘন্টা আলাপ-আলোচনার পর ব্রাসেলসে ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেট নির্ধারিত হল অনেক টানাপোড়নের পর। ‘এটা হয়তো কারোরই মনের মতো বাজেট নয়, তবে সবার জন্যই কিছু কিছু আছে, বলেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হের্মান ফ্যান রমপয়। এই আপোসে ইইউ নেতৃবৃন্দের যৌথ দায়িত্বের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।” ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেটকে আবার বাজেট না বলে মাল্টি-অ্যানুয়াল ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রেমওয়ার্ক বা বহু-বাত্সরিক আর্থিক কাঠামো, সংক্ষেপে এমএফএফ বলা হয়। এটা নির্ধারণ করা অতীতেও মুশকিল ছিল। এবার ছিল অতিশয় মুশকিল। তার নানা কারণ ছিল। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তার নিজের রক্ষণশীল দলের অনেককে খুশি করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন যে, এবার তিনি কোনোমতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেট বাড়তে দেবেন না। আর অনুদানের ক্ষেত্রে ব্রিটেন যে রিবেট বা ছাড়া পেয়ে থাকে তারও কোনো নড়াচড়া হবে না। জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সরাসরি বাজেট কমানোর সপক্ষে না হলেও জার্মানির প্রদেয় অনুদানটা যাতে না বাড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পুরোপুরি সফল হননি। ওদিকে ফ্রান্সের নতুন সমাজতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া ওলঁদ একাধারে জাতীয় স্বার্থ এবং দক্ষিণ ইউরোপের সংকট পীড়িত দেশগুলোর স্বার্থরক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি কমালে চলবে না। অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির জন্য আর্থিক প্রেরণার ব্যবস্থা করতে হবে। সব মিলিয়ে আগামী সাত বছরের বাজেট দাঁড়িয়েছে ৯৬০ বিলিয়ন ইউরোয় অর্থাত্ এক ট্রিলিয়নের অঙ্ক ছোঁয়নি, বরং যা ধারণা করা হয়েছিল বাজেট তার চেয়ে ৩৪ বিলিয়ন ইউরো কম হয়েছে।