গুরুদাসপুরে ট্রান্সফরমার চুরি
সেচ সংকটে শতবিঘা জমি
গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৮
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার সিধুলী মাঠ থেকে একটি গভীর নলকূপের ১০ কেভি ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ায় শত বিঘা জমিতে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে এই অবস্থা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের (বিএমডিএ) আওতায় গত প্রায় ৩ মাস ধরে সিধুলী গ্রামের কৃষক আকবর আলী ওই গভীর নলকূপের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ কেভির তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার সংযোগ পান ২ মাস আগে। তারপর থেকে সেচ সরবরাহ শুরু হয়।
দক্ষিণ চলনবিলের সিধুলী মাঠের ওই ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ার কারণে ৪০ জন কৃষক দিনের পর দিন সেচ দিতে না পারায় উক্ত স্কিমের আওতায় শত বিঘা জমিতে ইরি-বোর চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া জমিতে থাকা গম, রসুন, পিঁয়াজ ও তরমুজের আবাদও পড়েছে সেচ সংকটে।
কৃষক আবু শামা জানালেন, তার নিজের জমি নেই। ৩০ হাজার টাকায় দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ইরি-বোরো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেন। কিন্তু মাঠে গিয়ে জানতে পারেন, যে স্কিমের আওতায় তার জমি সেই স্কিমের ১০ কেভির তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে। সেচ দিতে না পেরে চারাগুলো মাঠেই শুকিয়ে মরে যায়।
নলকূপের মালিক ( ম্যানেজার) কৃষক আকবর আলী জানান, গভীর নলকূপটি চালু হওয়ার পর থেকে স্বল্প খরচে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পাওয়ার আশা জেগেছিল এলাকার কৃষকদের মধ্যে। কিন্তু গত ৭ ফেব্রুয়ারি সেচ সংযোগ থেকে ট্রান্সফরমার তিনটি চুরি যাওয়ায় কৃষকরা সেচ সংকটে পড়ে। এখন নতুন তিনটি ট্রান্সফরমার কিনতে দেড় লাখ টাকা লাগবে। কিন্তু টাকার অভাবে কিনতে পারছেন না। বিষয়টি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পকে জানানো হয়েছে। তারা নতুন ট্রান্সফরমার নিতে টাকা জমা দেয়ার কথা বলেই দায়িত্ব শেষ করেছেন।