উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করলো অজিরা

শেষ পর্যন্ত হোয়াইটওয়াশের লজ্জাতেই ডুবতে হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথম চারটি ম্যাচ জেতার পরে গতকাল মেলবোর্নে সিরিজের পঞ্চম ওয়ানডেতে তাদের ১৭ রানে পরাজিত করে ৫-০ তে সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। সেই ১৯৯৭ সালে পার্থে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বে উইন্ডিজ পরাজিত করে মার্ক টেলরের অস্ট্রেলিয়াকে। তার পরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ানডেতে তাদের হারানো হয়নি একবারও। ১৬ বার মাঠে নেমে প্রতিবারই ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। তাই প্রথম চারটি ম্যাচ হারার পরে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা নিশ্চয়ই হানা দিচ্ছিল উইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির মনে। তবে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামার পরে তাকে ভাল একটা সূচনাই এনে দেন ওপেনিং বোলার টিনো বেস্ট। ম্যাচের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যান মাইকেল ক্লার্কের বদলে অধিনায়কত্ব করতে নামা শেন ওয়াটসন। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে ফেরত পাঠান আরেক ওপেনার অ্যারন ফিন্সকেও। ১৮ মাস বাদে ওয়ানডে দলে সুযোগ পাওয়া শন মার্শ এবং ওয়ানডে অভিষেকেই সেঞ্চুরি হাঁকানো ফিলিপ হিউজ দলকে বিপদ থেকে সাময়িকভাবে উদ্ধার করলেও দলের রান ১০০ পেরোনোর আগেই বিদায় নেন তারা। এরপরেই মাঠে নামেন অজিদের জয়ের নায়ক অ্যাডাম ভোজেস। আরেক প্রান্তে উইকেট রক্ষক ব্রাড হাডিনকে সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন প্রতিরোধ। ১১১ রানের দারুণ এক জুটির পরে ব্যক্তিগত ৪৩ রানে হাডিন ফিরে গেলেও লড়াই চালিয়ে যান ভোজেস। অসমাপ্ত ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে জেমস ফকনারকে সাথে নিয়ে যোগ করেন আরো ৮১ রান। শেষ ১০ ওভারে আসে ১০০ রান। ফলে ৫০ ওভার শেষে অজিদের স্কোর দাঁড়ায় ২৭৪। ৯৭ বলে শতরান মাইলফলক ছোঁয়া ভোজেস শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১১২ রানে। ১০৬ বলের এই ইনিংসে দশটি চারের পাশাপাশি ছিল দুটি ছয়। প্রায় ছয় বছর আগে ওয়ানডে অভিষেক হলেও দলে একবারের জন্যও নিজের জায়গাটা পাকা করতে পারেননি এই ব্যাটসম্যান। খেলেছেন মাত্র ১৭টি ম্যাচ। পরম প্রার্থিত এই সেঞ্চুরির পরে তার উল্লাসই বলে দিচ্ছিল তার উচ্ছ্বাসের মাত্রাটা। ২৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা উইন্ডিজ শুরুটা করেছিল ভালভাবেই। সাত রানে কাইরন পাওয়েল বিদায় নিলেও ড্যারেন ব্রাভো সাথে নিয়ে ভালই খেলছিলেন আরেক ওপেনার জনসন চার্লস। দলীয় শতরানের পরে ব্রাভোর বিদায়ে ভাঙ্গে এই জুটি। এরপরে ডোয়াইন ব্রাভোও দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পরে দলটি। তবে আগের ম্যাচেই শতক হাঁকানো কাইরন পোলার্ড চার্লসের সঙ্গে জুটি বেধে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। দলীয় ১৮২ রানে নিজের অভিষেক সেঞ্চুরির পরে চার্লস যখন ফিরে যান তখনো ভালভাবেই ম্যাচে ছিল উইন্ডিজ। তবে থমাস এবং স্যামির সাথে কার্যকর দুটি জুটির পরে ৪৫ রানে ফকনারের বলে পোলার্ড ফিরে গেলে কার্যত তাদের আশা শেষ হয়ে যায়। এর পরের তিন ওভারে শেষ তিন উইকেটের পতন হলে ২৫৭ রানেই শেষ হয়ে যায় উইন্ডিজের ইনিংস। একই সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের হোয়াইটওয়াশ হবার ব্যাপারটাও। অনুমিতভাবেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়া ভোজেসকেই জয়ের মূল নায়ক বলেছেন অধিনায়ক ওয়াটসনও,‘নি:সন্দেহে ভোজেস দারুণ খেলেছে। তারা (ব্যাটসম্যানরা) উইকেটে দারুণ স্বচ্ছন্দ ছিল এবং আমি জানতাম এক পর্যায়ে তারা ঝুঁকি নিয়েই খেলবে। ভারতের বিমানে ওঠার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’