‘আমি এখন আবেগে ভেসে যাচ্ছি’

পছন্দমতো কোচ পাওয়া যায়নি বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসাবে কাজ করা শেন জার্গুনসেনের ওপরই আস্থা রাখছে। জার্গুনসেনের জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিসিবির সভায় অনুমোদন হলেই এই অস্ট্রেলিয়ানের কাজ শুরু হয়ে যাবে। রিচার্ড পাইবাস চলে যাওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসাবে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। তার অধীনে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জিতে মুশফিকরা। গত শনিবার ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির সভায় জার্গুসেনের নাম প্রস্তাব করার পর ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে নিজের অনুভূতি এবং জাতীয় দলের দায়িত্ব পেলে তার ভূমিকা কি হবে তা বিস্তারিত বলেছেন এই অস্ট্রেলিয়ান। শেন জার্গুনসেনের সেই সাক্ষাত্কারের নির্বাচিত অংশ— ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির সভায় আপনার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি শোনার পর থেকে আপনার কেমন লাগছে? এই মুহূর্তে আমি আসলে আবেগে ভেসে যাচ্ছি। জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করার কথা ভাবতে গিয়ে একদিকে যেমন আমি বিস্মিত হয়েছি, তেমনি এই দায়িত্বের জন্য নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। দায়িত্ব পেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমাদের যে সাফল্য ছিল সেই ধারাবাহিকতা আমি বজায় রাখার চেষ্টা করবো। ১৫ ফেব্রুয়ারি দল নির্বাচনের পর শ্রীলংকা সফরে খেলার জন্য মাত্র তিন সপ্তাহ সময় পাবে জাতীয় দল। নতুন কোচের জন্য এই সময়ের মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নেয়া একটু কঠিন হতো। কিন্তু আপনার জন্য নিশ্চয়ই তা নয়। তবুও এই সময়ের মধ্যে কিভাবে দলকে প্রস্তুত করবেন? আমাদের অবশ্য প্রধান দুশ্চিন্তা হচ্ছে বোলিং বিভাগ নিয়ে। বোলাররা টি-টোয়েন্টি থেকে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে; এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়াটা বেশ চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। টেস্ট খেলার জন্য একজন বোলারকে যত ওভার বল করতে হয়, আমি তাদেরকে সমপরিমাণে ওভার বল করিয়ে প্রস্তুত করাবো। বিপিএলে ব্যাটসম্যানরা ফর্মে আছে, এটা একটা ভালো দিক। তবে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আরও বেশি কিছু লাগবে। ব্যাটসম্যানদের জন্য আলাদা কোন পরিকল্পনা কি করছেন? ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখে আমরা সবাইকে এক সঙ্গে পাচ্ছি। ফলে খুব বেশি কিছু করার সময় পাওয়া যাবে না। তবে জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় আছে,যারা আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনাল খেলবেন। এটাও আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হবে। টেস্ট ক্রিকেটের আগে চারদিন কিংবা পাঁচদিনের ম্যাচগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলংকার বিরুদ্ধে কখনোই বাংলাদেশ টেস্ট জিতেনি। ২০০২ সাল থেকে তিনটি সিরিজে খেলেছে বাংলাদেশ; তার সবগুলোতে হেরেছে তারা। এবার আপনার কি লক্ষ্য থাকবে? আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে শ্রীলংকায় গিয়ে ভালো পারফর্ম করা। সেখানে গিয়ে জেতার জন্য খেলবো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজটি অনেক ভালো কেটেছে আমাদের। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা বিপিএলে ভালো করেছে। এই কারণে আমিও আত্মবিশ্বাসী ভালো খেলার ব্যাপারে।