খুব ব্যস্ত কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ!

কেরানীগঞ্জের বহুল আলোচিত স্কুল ছাত্র পরাগ মন্ডল অপহরণ মামলা চার্জশিট দুই মাস পরও দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত চলছে ঢিলেঢালা অবস্থায়। এ দিকে গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে যুবলীগ নেতা জুয়েল মোল্লা, মামুন হোসেন, রিজভি, আবুল কাশেমসহ ৫ জন জামিন পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বেরিয়ে তারা নানা ধরনের অপতত্পরতা শুরু করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর ( তদন্ত) বলেছেন, পুলিশ খুব ব্যস্ত তাই চার্জশিট দাখিল করতে সময় লাগছে। এ দিকে পুলিশ পাহারায় স্কুল যাচ্ছে স্কুল ছাত্র শিশু পরাগ মন্ডল। গতবছর ১১ নভেম্বর সকালে স্কুল যাওয়ার সময় বাসার সামনে থেকে সন্ত্রাসীরা পরাগকে অপহরণ করে। এসময় অপহরণকারীদের গুলিতে আহত হন পরাগের মা লিপি মন্ডল, বোন পিনাকি মন্ডল ও গাড়ি চালক । ঘটনার দুইদিন পর ১৩ নভেম্বর রাত সোয়া ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের আঁঁটিপাড়া বাজার এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় পরাগকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলায় পুলিশ এক মহিলাসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে। এরা হচ্ছে আমীর হোসেন, তার স্ত্রী বিউটি, যুবলীগ নেতা জুয়েল মোল্লা, জাহিদুল হাসান, আলী ওরফে রিফাত, কালা চান, আলফাজ, রিজভী আহমেদ অনিক, আবুল কাশেম, মামুন হোসেন ও আল আমিন। তাদের মধ্যে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আমীর হোসেন, মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত, জাহিদুল হাসান, কালা চান ও আল আমিন। সম্প্রতি এদের মধ্যে ৫ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন । মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয় টঙ্গী এলাকা থেকে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় টঙ্গী থানায় মামলা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়েই ঘটনার দিন গুলি ছোঁড়া হয়েছিল। ঐ অস্ত্রের ব্যালাস্ট্রিক রিপোর্টের জন্য আদালতে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। গতকাল রবিবার আদালত এর অনুমতি দিয়েছে। আসামিরা জামিন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, শুনেছি জুয়েল মোল্লাসহ কয়েকজন জামিন পেয়েছেন। তবে জামিন সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র তিনি এখনও পাননি। কবে নাগাদ চার্জশিট দিতে পারবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশা করছি চলতি মাসের শেষ দিকে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের কাউকেই বাদ দেয়া হবে না। পরাগের বাবা বিমল মন্ডল গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বাড়িতে পুলিশ পাহারা রয়েছে। প্রতিদিন পুলিশ পাহারায় তাকে স্কুলে পাঠানো হচ্ছে। তিন শিফটে তিনজন পুলিশ কনস্টেবল সদ্য পাহারা দিচ্ছে।