তদন্তে ১১ মাসে র্যাবের খরচ ৪০ লাখ টাকা!
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩২
এক বছরে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড তদন্তের নামে শুধু অর্থই খরচ হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য এ পর্যন্ত র্যাব আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা খরচ করেছে। এর বেশিরভাগই খরচ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ডিএনএ টেস্ট করার জন্য। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ডিএনএ নমুনার টেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী র্যাবের তদন্ত ফল শূন্য।
এ হত্যার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য খরচ হয়েছে র্যাবের কাছে বরাদ্দ শীর্ষ সন্ত্রাসী অথবা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে মূল্যবান সোর্স মানি। গত বছরের মে মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত র্যাবের সোর্স মানির বেশিরভাগই খরচ দেখানো হয়েছে সাগর-রুনি হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতারের ক্ষেত্রে। এছাড়া ডিএনএ টেস্ট ও মেঘের কাউন্সেলিং করার জন্যও খরচ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে পলাতক সিকিউরিটি গার্ড এনামুলকে গ্রেফতার করতে র্যাব সারাদেশে শতাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে সোর্স মানির টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কোন শীর্ষ কর্মকর্তাই সোর্স মানি খরচের বিষয়টি স্বীকার করেননি। তবে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (অর্থ) শাখার সূত্র জানায়, গত বছর র্যাবে বরাদ্দ করা সোর্স মানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তকাজে। এছাড়া সাগর-রুনির হত্যার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রে ডিএনএ টেস্টের জন্য র্যাবে অর্থের বিশেষ বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত হুমায়ন ওরফে এনামুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে র্যাব। একইসঙ্গে তার ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নমুনা পাঠানোর আবেদনও মঞ্জুর করেছে আদালত।
এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর নিহত সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির গতকাল দৈনিক ইত্তেফাকের কাছে আক্ষেপ করে বলেন, ‘এক বছরেও আমি বিচার পেলাম না। সিকিউরিটি গার্ড এনামুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটা জেনে ভালো লাগল। কিন্তু এটা নিয়ে যেন কোন নতুন জজ মিয়ার নাটক না হয়। সত্যিকারের খুনিদের আমি দেখতে চাই কারা এবং কেন আমার ছেলে ও বউমাকে হত্যা করল। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকে নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন খুনিদের গ্রেফতার করবেন এবং মেঘের দায়িত্ব নিবেন। কিন্তু তার কোনটিই হয়নি। মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, ‘গত একটি বছর তদন্তকারী সংস্থাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। যখনই ডেকেছে, তখনই কাজ ফেলে গিয়েছি। কিন্তু এর কোন ফল পেলাম না। গত ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের ৫৮/এ/২ নম্বর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সাগর-রুনির ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধারের আট মাস পর গত ৯ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে আটজনকে সনাক্ত করা হয়েছে। ঐ আটজনের মধ্যে শুধু এনামুলই পলাতক ছিলেন। বাকি সাতজন গ্রেফতার ছিলেন। সাগর-রুনিসহ সব সাংবাদিক হত্যার বিচার, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবিতে আজ সোমবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক মহাসমাবেশ ডাকা হয়েছে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এই মহাসমাবেশ আহ্বান করেছে।