শাহবাগ আন্দোলনের সাথে সংসদে একাত্মতা

মহাজোটের সংসদ সদস্যরা যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা প্রকাশ করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন। তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসির দাবিতে তরুণ প্রজন্ম ফুুঁসে উঠেছে। এ আন্দোলনকে কোনভাবে স্তব্ধ করা যাবে না। সকল সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও সংসদের পক্ষ থেকে শাহবাগ চত্বরে তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানানোর দাবি জানিয়েছেন। সে সাথে তারা ট্রাইব্যুনালের আইনের সংশোধনেরও দাবি জানান। ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে প্রথমেই পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। দু’পর্বে আলোচনা চলে দুই ঘণ্টা ৩৪ মিনিট। তবে তৃতীয় আলোচক হিসাবে ডেপুটি স্পিকার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমকে ফ্লোর দেয়ার পর তার বক্তব্যের শুরুতেই অধিবেশন কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় ডেপুটি স্পিকার মাইক বন্ধ করে দিলে প্রতিবাদে তিনি ওয়াকআউট করেন। এরপর মহাজোটের সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখার সময় ফজলুল আজিমের কঠোর সমালোচনা করেন। শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, শাহবাগ চত্বরে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা অবস্থান নিয়ে জাতিকে উজ্জীবিত করেছে। তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আজ জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে এ নিয়ে যড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিএনপি শেষ চেষ্টাও করেছে। এরই অংশ হিসাবে খালেদা জিয়া ওয়াশিংটন টাইমসে নিবন্ধ লিখে আমেরিকার কাছে ধর্ণা দিয়েছেন। বিএনপি’র দুই নেতা এম কে আনোয়ার ও খোন্দকার মাহাবুব হোসেনের সমালোচনা করে শেখ সেলিম বলেন, আপনাদের যদি সাহস থাকে তাহলে শাহবাগে গিয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়া দেখে আসুন। তোফায়েল আহমদ বলেন, কসাই কাদের মোল্লার রায়ে গোটা জাতি স্তম্ভিত। বঙ্গবন্ধুর একাত্তরের সেই কণ্ঠের প্রতিধ্বনি আবার ফিরে এসেছে শাহবাগ মোড়ে তরুণ প্রজন্মের মাঝে। কিছুদিন আগে জামায়াত-শিবির তাণ্ডব চালিয়েছিলো। চট্টগ্রামে গত শনিবার জামায়াত-শিবিরকে লোকজন প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা শাহবাগ মোড়ের আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করার জন্য সংসদে একটি প্রস্তাব পাস করতে পারি। জাতীয় পার্টির (এ) মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, যে মুহূর্তে আমরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে বক্তব্য রাখছি সে মুহূর্তে আমাদের সন্তানরা শাহবাগ স্কোয়ারে আরামকে হারাম করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তাদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন করছে। তাদের আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির নয়, সারাদেশের মানুষের আন্দোলন। তিনি ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে বলেন, ট্রাইব্যুনালে ভালো আইনজীবী নিয়োগ দেন। যেনো আইনে কোন ধরনের ফাঁক ফোকর না থাকে। একইসঙ্গে তিনি সংসদের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করে শাহবাগে আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশের প্রস্তাব দেন। রাশেদ খান মেনন শাহবাগে জেগে ওঠা একাত্তর প্রজন্মকে অভিনন্দন জানিয়ে সেখানে জাতীয় সংসদের প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তাব করে বলেন, প্রজন্ম চত্ব্বরের শ্লোগান এখন সংসদে উঠছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের নবপ্রজন্মের এই সাহসী উত্থানে সংসদ সংহতি প্রকাশ করছে। স্বতন্ত্র এমপির ওয়াকআউট : এরপরই তৃতীয় আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখার জন্য ফ্লোর পান মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। তিনি শাহবাগ মোড়ের আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এটি সত্যিকার অর্থে জনতার আন্দোলন। এতে বিশেষ রাজনৈতিক দলের উত্সাহ দেয়ার কোন কারণ নেই। এ কথার পরই মহাজোটের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদসহ টেবিল চাপড়ে মাইক বন্ধের দাবি জানান। এরমধ্যে ফজলুল আজিম বলেন, এই বিচার নিয়ে সারা জাতি একমত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলবে। তবে এটা করতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে। আবারও মহাজোটের সংসদ সদস্যরা তার বক্তব্যের প্রতিবাদে হৈচৈ করলে ফজলুল আজিম তাদের উদ্দেশে বলেন, এখানে চিল্লায়েন না, সাহস থাকলে প্রজন্ম চত্বরে গিয়ে চিল্লান। ডেপুটি স্পিকার মাইক বন্ধ করে দেন। প্রতিবাদে তিনি অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।