এনবিআরের ৪ হাজার কোটি টাকার টার্গেট
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৩
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে বড় ভূমিকা রাখতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বৃহত্ এই অবকাঠামো নির্মাণে এনবিআর কত টাকার যোগান দিতে পারবে তার একটি পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে এনবিআরের কাছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ হাজার কোটি টাকা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এ লক্ষ্যে একটি খসড়া তৈরি করেছে সরকারের অভ্যন্তরীণ অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠান। এই অর্থায়নের জন্য মোবাইল ফোনের টক টাইম ও সিম কার্ডের উপর নতুন কর (সারচার্জ নামে) আরোপ হতে পারে। ২৫ শতাংশের উপর শুল্ক নির্ধারিত আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি ৪০ পয়সা হারে নেয়া হবে। এই অর্থ সারচার্জ বা লেভি নামে আরোপ হবে। এছাড়া বেশকিছু খাতে সারচার্জ আরোপের মাধ্যমে এই ৪ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন করা হবে। তত্কালীন যমুনা বহুমুখী সেতু (্বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতু) প্রকল্পের সারচার্জের অভিজ্ঞতাকে এক্ষেত্রে কাজে লাগাতে চায় সরকার। এনবিআরের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গত জুনের শেষদিকে বিশ্ব ব্যাংক এই ঋণ চুক্তি বাতিল করার পর অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের মাধ্যমে এই অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর উপর ভিত্তি করে এনবিআর অর্থায়নের একটি পরিকল্পনাও তৈরি করে। ওই পরিকল্পনায় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের উপর নতুন করে সারচার্জ আরোপের কথা বলা হয়। সেইসাথে এসি বাস, থ্রি-হুইলার, বিমান, ফেরি, গাড়ি বিক্রি, গৃহ-সম্পত্তি বিক্রি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকের আওতাধীন জমি হস্তান্তর, কোমল পানীয়, গ্যাস-বিদ্যুত্ সংযোগ, বিজ্ঞাপন, অভিজাত হোটেলে খাবার এবং একটি নির্দিষ্ট সীমার উপর যাদের ব্যাংকে আমানত রয়েছে তাদের উপর এই সারচার্জ আরোপের পরিকল্পনার কথা ছিল এনবিআরের। সেই সাথে বিড়ি ও সিগারেটের উপরও একটি নির্দিষ্ট হারে কর আরোপের কথা ছিল। এই পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছিল। প্রায় সাত মাস আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হলেও পরবর্তী সময়ে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে আলোচনা চলমান থাকায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি। তবে সমপ্রতি সরকার সংস্থাটির কাছ থেকে অর্থ না নেয়ার কথা জানিয়ে দিলে আবারো আলোচনায় চলে আসে এনবিআরের অর্থায়নের পরিকল্পনা। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এসব পরিকল্পনায় নতুন করে কয়েকটি বিষয় যুক্ত হতে পারে। আবার বাদও যেতে পারে কয়েকটি খাত।
এর আগে যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেও সরকার তত্কালীন সময়ে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট সারচার্জ (আইডিএসসি) নামে আড়াই শতাংশ হারে একটি সারচার্জ আরোপ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতায় পদ্মা সেতু প্রকল্পে সারচার্জ আরোপের চিন্তা করছে সরকার। এ প্রসঙ্গে এনবিআর সদস্য (আয়কর নীতি) সৈয়দ আমিনুল করিম গতকাল রবিবার ইত্তেফাককে বলেনঃ ‘আমরা এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। আমাদের প্রাথমিক চিন্তা হচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকার সংস্থান, সেটি আমরা দিতে পারব বলে আশা করছি। তবে কোন খাতে সারসার্জ আরোপ করলে জনগণের কষ্ট কম হবে সেটি চিন্তা করে আমাদের এগুতে হচ্ছে। এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
২৯০ কোটি ডলার ব্যয়ে পাঁচ কিলোমিটারের বেশী দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে চারটি আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নীকারী সংস্থার মধ্যে বিশ্বব্যাংকই ছিল সর্বোচ্চ ঋণদাতা। চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বব্যাংক দেয়ার কথা ১২০ কোটি ডলার। এডিবি ৬১ কোটি ডলার, জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ৪০ কোটি ডলার এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার। বাদবাকী অর্থের সংকুলান করার কথা ছিল বাংলাদেশের। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে। সেতু নির্মাণে বড় অংশ ব্যয় করতে হবে বৈদেশিক মুদ্রায়, ডলারে। সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে ওই অর্থের সংস্থান যাতে কোন উন্নয়ন সহযোগী বা দাতা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে অন্তত দেশীয় মুদ্রার উপর চাপ কিছুটা কমানো যাবে।