যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে ভারত সন্তুষ্ট :রঞ্জন মাথাই
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪১
সফররত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত প্রটোকল অনুমোদন প্রসঙ্গে বলেছেন, যতদ্রুত সম্ভব এই দুটো ইস্যুর সুরাহা হবেই। আমরা এসবের সন্তোষজনক নিষ্পত্তিতে দ্বিধাহীনভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে রঞ্জন মাথাই বলেন, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে দেখে ভারত সন্তুষ্ট। এতদিন পরে হলেও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। শাহবাগের বিক্ষুব্ধ জনতার জমায়েত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিক্ষোভ আর সাম্প্রতিক রায় প্রদানের বিষয়টি বাংলাদেশের পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। একাত্তর সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা বিশ্ববাসী পুরোপুরি জানে। বাংলাদেশিদের তখনকার যন্ত্রণার অংশীদার হয়েছিল ভারত। তাই এখন বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।
ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব তিনদিনের সফরে এখন ঢাকায় আছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন তিনি। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কানেক্টিভিটি, বিদ্যুত্ খাতে সহযোগিতা, পানি ইস্যুসহ সার্বিক সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্র সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পেশাগত মনোন্নয়ন ও সফর বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। ভারতের পররাষ্ট্র সার্ভিস ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমি এই চুক্তি বাস্তবায়ন করবে। অন্যান্য সার্ভিসের কর্মকর্তাদেরও চুক্তি অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে রঞ্জন মাথাই আরো বলেন, যত দ্রুত তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কোন দিনক্ষণ জানিয়ে আমরা প্রতিশ্রুতি পূরণ করব না। তবে খুব শীঘ্রই তিস্তা চুক্তি হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লী সফরসূচি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। রঞ্জন মাথাই আরো বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অস্ত্রধারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় রাতের বেলায় সীমান্ত হত্যা ঘটে। গত বছর দশজন ভারতীয় নিহত হয়। যৌথ টহল ও সীমান্ত বাহিনীগুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ে সংযম হলে সীমান্ত হত্যা কমে যাবে। সীমান্তে নিরীহ তরুণী ফেলানীকে বিএসএফ গুলি করে হত্যার ঘটনাটি তার জানা নেই বলে রঞ্জন মাথাই এক প্রশ্নের উত্তরে জানান।
বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে ভারতের অংশগ্রহণ প্রশ্নে রঞ্জন মাথাই বলেন, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন আলোচনা এখনও শুরু হয়নি। এটা একটি বেশ বড় প্রকল্প। একক দেশ বা সংস্থার পক্ষে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ সরকার অন্য দাতা ও সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এক বিলিয়ন ডলারের ঋণের মধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিচ্ছে ভারত। বাংলাদেশ এই অনুদানের অর্থ যেকোন কাজে ব্যবহার করতে পারে।
এছাড়া পদ্মা সেতু নিয়ে কোন কনসোটিয়াম হলে ভারতীয় কোম্পানিগুলো অংশ নিতে আগ্রহী হবে।
সাংবাদিক সম্মেলন ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ভারতে হাইকমিশনার তারিক এ করিম, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভারতীয় পক্ষে ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ সরণসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা।