দশ বছরের জন্য নিষিদ্ধ নাদীর শাহ
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৬
ক্রিকেট ম্যাচ পাতানোর জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দশ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছেন আম্পায়ার নাদীর শাহ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত শেষে শাস্তির সুপারিশ আইসিসির কাছে পাঠিয়েছে। আইসিসি এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিবে। এসব ব্যাপারে আইসিসি সচরাচর সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
নাদীর শাহ’র বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিসিবি’র গত সভায় তাকে এই শাস্তি দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থা আইসিসির কাছে সুপারিশ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল সোমবার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বোর্ড সভায় নাদীর শাহ’র বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী তাকে এই শাস্তি দেয়া হয়েছে। ম্যাচ পাতানোর সাথে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় এই শাস্তি দেয়া হয়েছে’।
আইসিসির কাছ থেকে এখনো দাপ্তরিক কোন ভাষ্য না মিললেও সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন এই শাস্তির ফলে নাদীর শাহকে আগামী দশ বছর ক্রিকেট মাঠ থেকে বহিষ্কৃত থাকবেন। তিনি কোন পর্যায়েই আম্পায়ারিং করতে পারবেন না। এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে নাদীর শাহ’র মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
ভারতীয় টিভি চ্যানেলের এক সাংবাদিকের গোপন ক্যামেরায় নাদীর শাহ ম্যাচ পাতাতে পারেন বলে অভিমত দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি অর্থের বিনিময়ে যে কোন ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত হতে পারেন বলেও জানান ওই সাংবাদিককে। পরে অবশ্য নাদীর শাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, ‘তিনি নির্দোষ। তাকে ফাঁসানো হয়েছে’। দেশে ফিরে বিভিন্ন সময়ে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
বিসিবির আগের কমিটি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গড়েছিল। কিন্তু সেই কমিটি সময়মত নাদীর শাহ’র বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগের তদন্ত শেষ করতে পারেনি। বিসিবির বর্তমান এডহক কমিটি এসে পুনরায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি তদন্ত শেষে বিসিবির কাছে রিপোর্ট পেশ করে। তদন্তের স্বার্থে কমিটি ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক, নাদীর শাহ, এমনকি ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পাওয়া আরেক আম্পায়ার শরফুদ্দিন ইবনে সৈকতকেও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জাতীয় দলের দুই খেলোয়াড় তামিম ইকবাল ও আব্দুর রাজ্জাককেও তলব করে তদন্ত কমিটি। অবশেষে সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। যদিও কাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে বোর্ডের কেউ কিছু বলতে রাজি হননি।