চকরিয়ায় সেতুর রেলিং ভেঙ্গে বাস নদীতে, নিহত ১৮
কক্সবাজার প্রতিনিধি ও চকরিয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৫
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের চকরিয়ায় সেতুর রেলিং ভেঙ্গে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে ঘটনাস্থলেই ছয় নারী-শিশুসহ ১৮ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বাসটির ড্রাইভার ও হেলপারসহ ২৫ জন। গতকাল সোমবার ভোর ৫টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেশিরভাগেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গাজীপুর জেলা সদরের ৪২ জন নারী-পুরুষ ও শিশু ‘নিরাপদ সুপার সার্ভিস’ (নং- টাঙ্গাইল-জ-১১-০০৮০)-এর একটি বাস নিয়ে রবিবার সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে আসেন। তারা মধ্যরাত্রি পর্যন্ত মাজার এলাকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। পরে রাত একটার দিকে একই গাড়িতে করে তারা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। বাসটি চকরিয়ায় ঢোকার সময় মাতামুহুরী নদীর সেতুর ওপর উঠলে হঠাত্ চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে বাসটি সেতুর রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে যায়। প্রায় ৫০ ফুট নিচে নদীর জেগে উঠা চরে পড়ে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান বাসটির ১৮ যাত্রী। ফজরের নামজের সময় সংঘটিত এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তারা ৫টি লাশ উদ্ধার করার পর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আরো ১২ জনের লাশ উদ্ধার করেন। পরে ক্রেনের সাহায্যে বাসটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুইজনের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের কললিস্ট ধরে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন গাজীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তোয়াজ উদ্দিনের পুত্র আফসার উদ্দিন (৫০) ও মোহর আলীর পুত্র আবদুর রশিদ (৪০)। নিহত অন্যরা হলেন: হাসেমের পুত্র ইকবাল (৪০), আবদুল আজিজের পুত্র রাজিব (৩০), লালমিয়া (৬০) ও তার দুই স্ত্রী জয়নাব বেগম (৪৮) ও মুফিজা বেগম (৩৮), সাতাই ফলানের পুত্র মোহাম্মদ (৬৫), তহিদুল (৩৮), অহিজ উদ্দিন (৮০), আবদুল জলিল (৫০), হাসেম ভুঁইয়া (৬৫), আয়েছ আলী (৫৫) ও শিউলী (১৪)। এদের প্রত্যেকের বাড়ি গাজীপুর সদর এলাকায়। তবে বাকি চারজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আহতদের মধ্যে আজমত, বাহার উদ্দিন, হেনুয়ারা বেগম, আবদুর রহমান, সাইদুজ্জামান, আবু শামা, তৌহিন, হালিম, সবুজ, হাবিব, রমিজ উদ্দিন, আবদুর রব, নুরুল ইসলাম ও শিশু নূরশাবাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার শিল্পী নামের এক মধ্যবয়সী মহিলা অক্ষত রয়েছেন। এছাড়া ওই বাসের অপর দুই যাত্রী মো. শামীম ও আল আমিন অন্য গাড়িতে করে আগেই কক্সবাজার চলে যাওয়ায় তারা দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, মরদেহগুলো গতকালই গাজীপুর পৌরসভায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপর স্থানীয় ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তত্পরতায় অংশ নেন।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ সঠিকভাবে জানা না গেলেও স্থানীয়রা বলেছেন, কয়েক বছর আগে মাতামুহুরী সেতুর উপর একটি গর্তের সৃষ্টি হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই অংশে লোহার পাটাতন ও কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে কোনরকমে চলাচল উপযোগী করে। ওই স্থানে অনেক সময় যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এরকম ভয়াবহ দুর্ঘটনা এর আগে আর ঘটেনি।
নবাবগঞ্জে বরযাত্রীবাহী
বাস খাদে, নিহত ১
নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-বান্দুরা সড়কে নবাবগঞ্জের বেনুখালী নামক স্থানে বরযাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১ জন নিহত হয়েছে। বর-কনেসহ আহত ৪০। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটায় ঢাকার কাফরুল থেকে দোহারের ইকরাশি যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানায়, ঢাকার কাফরুল থেকে ছেড়ে আসা বরযাত্রীবাহী দ্রুত পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেনুখালী ভাঙ্গা ব্রিজের পাশে খাদে পড়ে যায়। পুষ্প গোমেজ (৫০) নামে এক মহিলা নিহত হন। বর জেরাল গমেজ ও কনে বাঁধন গমেজসহ প্রায় ৪০ জন গুরুতর আহত হয়। চালক ও হেলপার পালিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে। শেফালী গোমেজ (৩৫), রাখি গোমেজ (৩২) ও ক্লিনটন গোমেজের (২৫) অবস্থা গুরুতর।