দীননাথ ইনস্টিটিউশন

অষ্টম শ্রেণি, সদস্য নম্বর :১৬২ হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা সদর হতে ২০০ মিটার উত্তরে বাহুবল বাজার সংলগ্ন করাঙ্গী নদীর উত্তর তীরে এবং বাহুবল-শেরপুর রাস্তা সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে দীননাথ ইনস্টিটিউশনটি অবস্থিত। এটি ১৯৩৭ সালে দেবেন্দ্রনাথ দত্ত প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পিতার নাম দীননাথ দত্ত। দেবেন্দ্রনাথ দত্ত ও তাঁর পূর্বপুরুষ বাহুবল উপজেলার সাতকাপন গ্রামের বাসিন্দা এবং ভূস্বামী ছিলেন। ভারতের করিমগঞ্জ জেলার শিলচরেও তাঁদের চা-বাগানসহ ভূ-সম্পত্তি ছিল। জানা যায় শিলচরে একটি স্কুল স্থাপনের জন্য দেবেন্দ্রনাথ দত্তসহ ঘনিষ্ঠজনরা চিন্তাভাবনা করছিলেন। এমনি সময়ে একদিন কথাপ্রসঙ্গে সাতকাপন স্টেটের ম্যানেজার রাজেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য দেবেন্দ্রবাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “বাতির তল অন্ধকার,” এ কথায় কাজ হয়েছিল এবং স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য রাজেন্দ্রবাবুকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তিনি এলাকাবাসীর প্রতি দরদী মনের সুপ্ত বাসনা বাস্তবায়নের জন্য ১৯৩৬ সালের গোড়া থেকেই চেষ্টা চালাতে থাকেন এবং বছরের শেষ দিকে স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক সভা আহ্বান করেন। ভাদেশ্বর নিবাসী আব্দুস সামাদ চৌধুরী (নবাব মিয়া) এর সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাজেন্দ্রবাবুর প্রস্তাব মতে “দীননাথ ইনস্টিটিউশন” নামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৩৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৪৯ সালে অত্র এলাকার একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতি দেয়। ১৯৪২ সালে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় ১জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয় ও কৃতকার্য হয়। এই স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১২টি শাখা এবং প্রায় ১২০০ জন শিক্ষার্থী আছে। শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদানে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর জে.এস.সি ও এস.এস.সি. পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জি.পি.এ-৫ ও বৃত্তি লাভ করে। আমাদের স্কুলে প্রতিবছর সব ধরনের জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করা হয়। এছাড়াও স্বরস্বতী পূজা ও বার্ষিক মিলাদ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকেন। প্রতিবছর প্রত্যেকটি শ্রেণির পক্ষ থেকে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশিত হয়। স্কুল কর্তৃক ‘উন্মেষ’ নামক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। আমাদের স্কুলে নিয়মিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত, এরপর জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, শপথ গ্রহণ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন এবং সবশেষে তিনতালির মাধ্যমে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষিত হয়। কেবল প্রচলিত গতানুগতিক শিক্ষার ধারক ও বাহক হওয়া নয়; বরং শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল, নীতিবান ও ধর্মানুরাগী হিসেবে গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য। এ স্কুলের শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি গর্বিত।