ক্যা ম্পা স তা র কা
সাঁতারে স্বর্ণজয় চলছেই
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫০
মাহফুজা খাতুন। দেশসেরা সাঁতারু। পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। ২০০৬ সালে এস এ গেমসে ৫০ ও ১০০ মিটার সাঁতারে ব্রোঞ্জ জিতেছে। তবে এর আগে থেকেই সাঁতারে দেশের পরিচিত মুখ মাহফুজা। ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ৫০ ও ১০০ মিটার সাঁতারে মাহফুজার টানা স্বর্ণজয় রথ চলছেই। সর্বশেষ ফিনা ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ র্যাংকিংয়ে মেয়েদের মধ্যে মাহফুজা খাতুনের অবস্থান ৪৭। দক্ষিণ এশিয়াতেই তা দ্বিতীয়। আর দেশের সাঁতারে তো সেরা সেই ২০০৩ সাল থেকেই।
কীভাবে এতদূর আসা? এমন প্রশ্নে মাহফুজা ফিরে গেলেন সেই অতীতে। ‘সময়টা ২০০২ সালের শেষদিকে। সাঁতার ও দৌড়ের কল্যাণে বৃহত্তর খুলনাতে তখন আমার বেশ নামডাক। হঠাত্ একদিন পাড়ার এক ক্রীড়ানুরাগী বড় ভাইয়ের চোখে পড়া। তিনি আমাকে পরামর্শ দিলেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সংস্থা পরিষদে (বিকেএসপি) ভর্তি হওয়ার। গ্রামের ওই ভাইয়ের হাত ধরেই ২০০৩ সালের কোনো এক সকালে বিকেএসপিতে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হই। ভর্তির সব খরচপাতিও ওই বড় ভাই দেন।’
পুরস্কারের ঝুলিতে রয়েছে ২০০৭, ০৮ ও ১০ সালে ইন্দোবাংলা গেমসে স্বর্ণজয়। ২০১০ সালে নেপালের সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিযোগিতায়ও স্বর্ণ জিতেন মাহফুজা। এছাড়া দেশ-বিদেশে আরও অনেক অর্জন তো রয়েছেই।
২০০৪ সালে মজার এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন মাহফুজা। বিকেএসপির হয়ে সেবার জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন। কথা ছিল শুধু সাঁতারেই অংশ নেবেন। কিন্তু ৪০০ মিটার দৌড়ে হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়লেন বিকেএসপির প্রতিযোগী। কী আর করা। সোজা পুল থেকে তুলে এনে ট্র্যাকে নামিয়ে দেয়া হলো মাহফুজাকে। ব্যস হয়ে গেল। বিকেএসপির মান রাখলেন মাহফুজা। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সবার আগেই দৌড় শেষ করলেন মাহফুজা। পরের বছরও নিজের জাত চিনিয়ে ৪০০ মিটারে মেয়েদের মধ্যে আবারও দেশসেরা। পুলের ক্ষিপ্ত এই মানুষটি কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে বেশ আমোদী ও প্রাণোচ্ছল। সময় পেলেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর আড্ডা।
বিনয়ের সঙ্গে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলেন তার কোচ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। তাঁদের সহযোগিতা না পেলে এতদূর আসা যেত না বললেন মাহফুজা। সারা বছর প্রশিক্ষণ আর পড়ালেখার ব্যস্ততায় থাকতে হয়। আর সময় পেলেই এক ছুটে যশোরের পাঁচ কবর গ্রাম। বাবা আলী আহমদ গাজী, মা করিমুন নেছার আর প্রতিবেশীদের সময় দিয়েই আবার নিজের কাজে ফেরা।