শি ক্ষ কে র ক থা

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ফারজানা মান্নান

আমার শিক্ষাজীবনের গুণকে কাজে লাগাতে চাই আমার দেশের উন্নয়ন তথা দরিদ্রমুক্ত, নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন, মানবতাবাদী একটি রাষ্ট্র নির্মাণে। এই লক্ষ্যে আমি আমার ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করতে চাই। শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশের নীতিনির্ধারণে কাজ করতে চাই ‘দারিদ্র্যতা, নারী-পুরুষ বৈষম্য, বেকারত্ব, ধর্মীয় মতানৈক্য এবং সামাজিক অসমতা ও অসঙ্গতির মত বিষয়গুলো যখন শিক্ষা জীবনের দিনগুলোকে চিন্তিত করছিল, তখনই ভেবে নিয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর-এর কথা। এসএসসিতে চট্টগ্রাম বিভাগে মেধা তালিকায় ১৬তম স্থান অর্জন, এইচএসসিতে ভিকারুননেসা নূন কলেজ হতে স্টারমার্কস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম সারিতে থাকাতে স্বপ্নটাকে ছুঁতে খুব বেগ পেতে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে শিক্ষকের সহযোগিতায় সামাজিক গবেষণার কাজটি রপ্ত করবার পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণীতে (সপ্তম ও তৃতীয়) উত্তীর্ণ হওয়া, আমার কর্মজীবনের শুরুটাকে করেছিল সহজ। ইডেন মহিলা কলেজ- সামাজিক জনবিজ্ঞান বিষয়টির অতিথি শিক্ষক হওয়ার মধ্যদিয়ে শিক্ষকতার যাত্রা শুরু। পরবর্তীকালে প্রভাষক, সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম, গণবিশ্ববিদ্যালয়-এ যোগদান করেন। বর্তমানে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে সিনিয়র প্রভাষক হিসাবে কর্মরত আছি। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণার ফলস্বরূপ প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি হতে বের করতে সক্ষম হই ‘নারী :সভা, সমিতি ও এনজিও’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ। শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি যে বিষয়টি খুব ছোটবেলা থেকেই আমাকে টানতো তা হলো ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষা’। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফুল স্কলারশীপ প্রোগ্রামগুলোতে আবেদন করবার সাথে সাথে আবেদন করেছিলাম ‘কমনওয়েলথ শেয়ারড স্কলারশীপ ইউথ ডিএফআইডি’ প্রোগ্রাম-এ। কমনওয়েলথভুক্ত ৯১টি দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সাহস ও তা অর্জনের সৌভাগ্য যুগিয়েছিল আমার স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ‘দরিদ্র ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক থিসিস, আমার শিক্ষকদের দেয়া লেটার অফ রেফারেন্স’ এবং উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিষয়ক একটি যুক্তিনির্ভর লেখা। সেপ্টেম্বর ২০১১ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১২ সময়কাল পরিবার থেকে দূরে এক অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ অর্জন করতে সক্ষম হই দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি 'International Politics (Globalijetion, Pavcrty and Development), University’ জীবনের সফলতার স্মৃতিকথায় যে দুটি নাম উল্লেখ না করলেই নয় তাহলো আমার বাবা এম.এ মান্নান (অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র এএসপি) এবং মা মিসেস ফাতিমা মান্নান। আজকে আমার যা কিছু অর্জন, আমি শতভাগ তার ক্রেডিট দিতে চাই আমার বাবার সার্বক্ষণিক অনুপ্রেরণা ও মার ভালবাসা, সাহস ও সহমর্মিতাকে। আমি আমার শিক্ষাজীবনের গুণকে কাজে লাগাতে চাই আমার দেশের উন্নয়ন তথা দরিদ্রমুক্ত, নারী-পুরুষের বৈষম্যহীন, মানবতাবাদী একটি রাষ্ট্র নির্মাণে। এই লক্ষ্যে আমি আমার ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করতে (আবেদন করেছি)। শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশের নীতিনির্ধারণে কাজ করতে চাই।