প্রসঙ্গ বয়ান
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী :বড় কোনো আয়োজন নেই!
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৭
এ দেশের কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। নাট্যকর্মীদের অনেককেই ফোন দিয়ে মতামত নেওয়ার সময় জানা গেল তারা আমাদের ফোনটা পাওয়ার পরই জানতে পারলেন যে আজ মৃত্যুবার্ষিকী। এ নিয়ে তেমন কোনো সাংগঠনিক আয়োজন নেই। স্মরণ সভা বা হুমায়ুন ফরিদী অভিনীত নাট্যোত্সব বা মঞ্চকর্মীদের কোনো আয়োজন নেই। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতেও তেমন কোনো আয়োজনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি আমরা পাইনি। অবাক আর ভুলে যাওয়ার এই নিষ্ঠুর স্বাভাবিকতাতেই যেন আমরা ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি! প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর এই দিনে তাই হুমায়ূন ফরীদির ঘনিষ্ঠ ও অনুরাগী ক’জনের শোকবার্তাই আমরা পাঠকের সামনে তুলে ধরলাম তার শ্রদ্ধাঞ্জলিস্বরূপ।
গ্রন্থনা করেছেন রবি হাসান
দেখতে দেখতে একটি বছর চলে গেল বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় ফরীদি নেই। ফরীদির শেষ নাটকটি করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। এবং শুটিংটি করেছিলাম আমার শুটিং স্পট ফাগুন নিকতনে। সে সময় ফরীদির স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো ছিল না। যখনই আমি সেই শুটিং স্পটে যাই, ফরীদির স্মৃতি প্রচণ্ডভাবে নাড়া দেয় আমাকে। আসলে ফরীদিকে হারিয়ে আমি একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হারিয়েছি। দুর্ভাগ্য আমাদের, তার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তেমন কিছুই করতে পারিনি। শুধু তাই নয়, তার জীবদ্দশাতে তো নয়ই, মৃত্যুর পরেও তার মতো এত বড় মাপের একজন অভিনেতাকে দেওয়া হয়নি মরণোত্তর কোনো রাষ্ট্রীয় পদকও। আজকের দিনে কষ্ট পাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। প্রার্থনা করি, ফরীদি যেখানেই আছে ভালো থাকুক শান্তিতে থাকুক।
হানিফ সংকেত, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব
আমরা তাকে নিয়ে এখনও কোনো আয়োজন করিনি। তবে আয়োজন নিয়ে বোধহয় গোছানো হচ্ছে। আজ ফাইনাল হবে। হুমায়ূন ফরীদির মৃত্যু আমাদের অভিনয় জগতে এক শূন্যতা সৃষ্টি করে দিয়েছে, যা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। তার বিয়োগে আমরা সবাই খুবই মর্মাহত। আমরা ভুলতে চাই যে সে মারা গেছে। তিনি বেঁচে আছেন, এই কিংবদন্তি কোনোদিন মরতে পারেন না। তার মতো এত বড় মাপের একজন অভিনেতা আগামী কয়েক শতকেও আসবে কি না এ বিষয়ে খুবই সন্দিহান। তিনি আমাদের মাঝে সব সময় বেঁচে থাকবেন।
মামুনূর রশীদ, নাট্যজন
ফরীদি ভাইয়ের চলে যাওয়াটা আমার কাছে শোকের মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয় তিনি আছেন। প্রতিটি মুহূর্তে আছেন। প্রতিটি দিন, আড্ডার সময়, প্রতিটি অভিনয়ের সময় আমার মনে হয় তিনি আছেন। কয়েকদিন আগে দেশ টিভির এক ইন্টারভিউতেও বলেছি, তিনি আছেন, থাকবেন। এ রকম একজন কিংবদন্তি অভিনেতা আমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারেন না। এ ধরনের অভিনেতা আমাদের মাঝে যুগ যুগ শত শত বছর বেঁচে থাকবে। আর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এখনও তেমন কোনো আয়োজনের ফাইনাল কিছুই হয়নি। তবে আজ এর কী কী আয়োজন হচ্ছে এ বিষয়টি ফাইনাল হবে। আমরা আমাদের আয়োজনের মধ্যে বুঝাতে চাই তিনি আমাদের মাঝে এখনও আছেন, থাকবেন, তাকে আমরা হারাইনি। তিনি নেই এমনটা আমরা বুঝাতেই চাই না, বুঝতেও চাই না।
সাজু খাদেম, অভিনেতা
এমনিতে সাংগঠনিকভাবে তেমন কোনো আয়োজন হবে না মনে হয়। তবে তার ফ্যামিলির পক্ষ থেকে তো অবশ্যই আয়োজন করবে। আজ একটি বছর চলে গেল তার সাথে দেখা নেই। ভাবতেই অবাক লাগে। তার সাথে আমার একটা বিষয় খুব মিল। তা হলো তার জন্মদিন আর আমার জন্মদিন একই দিনে। প্রতিটি জন্মদিনে আমি তাকে শুভেচ্ছা পাঠাতাম। সে আমাকে পাঠাত। একই দিনে দুজনার শুভেচ্ছা বিনিময়। এভাবে আমরা প্রতিবার শুভেচ্ছা বিনিময় করতাম। কিন্তু একটি জন্মদিন তো আমার পার হয়ে গেলো, না আমি তাকে শুভেচ্ছা পাঠালাম, না সে আমাকে পাঠালো। তার গুণের পাল্লা এত বেশি ছিল যে তার দূরের মানুষরাও তাকে কখনও ভুলতে পারবে না। আর আমরা তো তার খুবই কাছের মানুষ।
ড. ইনামুল হক, অভিনেতা
গতকালও এটা নিয়ে আমরা অনেক প্ল্যানিং করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে করছি, কিন্তু সাংগঠনিকভাবে কিছুই হচ্ছে না। তেমন বড় কোনো আয়োজন হলে আজকের মধ্যেই ফাইনাল হবে। আমার, আমাদের অনেকেরই খুবই কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। এক জীবন্ত কিংবদন্তি। কখন যে এক বছর পার হলো তা টেরই পেলাম না। হুমায়ুন ফরীদিকে ছাড়া একটি বছর চলল এই মিডিয়া। অনেক আড্ডা, অনেক অভিনয়, অনেক কাজ যার সবকিছুই আজ শুধু স্মৃতি।
তারিক আনাম খান, অভিনেতা
হুমায়ুন ফরীদি নেই এ কথা আমার বিশ্বাসই হয় না, বিশ্বাস করতেই চাই না। সুবর্ণা মুস্তাফাই বলতে পারবেন আমি হুমায়ুন ফরীদির কত কাছের মানুষ ছিলাম। প্রতি মুহূর্তেই মনে হয় এই বুঝি ফরীদি ভাই ফোন করল। পারিবারিক বন্ধু তো, এর চেয়ে কাছের লোক তো আর হয় না। আমি এখনও বলতে চাই এক শত বছরেও হুমায়ুন ফরীদির মতো কোনো শিল্পী জন্ম হয় না, হবে না।
শহীদুল ইসলাম খোকন, চলচ্চিত্র পরিচালক
আমাদের চ্যানেলে বেশ কয়েকটি আয়োজন আছে। প্রথম কথা ফরীদি ভাই আমাদের খুবই অনুসরণীয় একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এটা মঞ্চে হোক, টেলিভিশনে হোক আর ক্রিয়েটিভিতেই হোক। মঞ্চে যখন আমরা নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে কাজ করতাম তখন তার অভিনয়টাকে আমরা নকল করার চেষ্টা করতাম। যখন আমরা টেলিভিশনে অনুষ্ঠান প্রধান হিসেবে যোগ দিলাম তখন তাকে কীভাবে উপস্থাপন করলে সম্মানটা ঠিকভাবে জানাতে পারব তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যেতাম। আজকের ‘সকাল বেলার রোদ্দুর’-এ আফজাল হোসেন অতিথি হিসেবে থাকছেন। এই অনুষ্ঠানটি হুমায়ুন ফরীদি স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠান। ‘আমার আমি’র পর্বটিও বিশেষভাবে করা হয়েছে। আর রাতে আমরা হুমায়ুন ফরীদির একটি বিশেষ ইন্টারভিউ প্রচার করব।
শামীম শাহেদ, অনুষ্ঠান প্রধান, বাংলাভিশন