জয়-পরাজয় ছাপিয়ে সেই তিন মিনিট
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৪
শাহবাগের আন্দোলনের সাথে আগেই একাত্মতা ঘোষণা করেছেন ক্রিকেট সাংবাদিক, ক্রিকেটার ও ক্রিকট কর্মকর্তারা। কিন্তু বিপিএল খেলা বিদেশি খেলোয়াড়রা কালই প্রথম বুঝতে পারলেন যে, এ দেশে বড় একটা কিছু হচ্ছে। কাল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের খেলা চলা অবস্থায় তিন মিনিটের জন্য থমকে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তিন মিনিট নিস্তব্ধ হয়েছিল মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামও।
এ দিনে পল স্টার্লিং ও শিবনারায়ণ চন্দরপলের ফিফটিতে খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের বিপক্ষে ৬১ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল সিলেট রয়েলস। তবে জয়-পরাজয় নয়; এদিনের মূল আলোচ্য হয়ে দাঁড়ালো প্রতিবাদের এ ভাষা।
খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের বিপক্ষে তাই ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেও নিজের পারফরম্যান্স নয়; বাংলাদেশের এ অনন্য প্রতিবাদের ভাষা দেখে মুগ্ধ পল স্টার্লিং। ম্যাচশেষে প্রতিক্রিয়া জানাতে এসে তাই বিস্মিত প্রতিক্রিয়ার কথাই বললেন এ মারকুটে ওপেনার, ‘এ ঘটনা কখনো আমি দেখেনি। এটা আমার কাছে ব্যতিক্রম লেগেছে। একটা জাতি নিজেদের ইতিহাসের প্রতি এ ধরনের শ্রদ্ধাবোধ দেখে আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে’।
কালকের ম্যাচটি ছিল খুলনার শেষ ম্যাচ। ১২টি ম্যাচে মাত্র তিনটি জয় পেয়েছে খুলনা। দল জিততে না পারার হতাশা তো আছেই। কিন্তু কাল সেই হতাশাকেও ছাপিয়ে জাতীয় সেই নিস্তব্ধতার ৩ মিনিট। শাহরিয়ার নাফীস বলছিলেন তার আগের কথা, ‘আমাদের ক্রিকেটের যে অবস্থান, জাতি আমাদের কাছে আশা করে তাদের সাথেও আমরা সামিল হব। আজ (কাল) সারাজাতি জেগে উঠেছে।’
খুলনার জন্য এবারের বিপিএল হতাশায় কেটেছে। গতবারের সেমিফাইনালিস্ট তারা, অথচ এবার সবার নিচে। কাল সিলেটের কাছে হারার পর হতাশাই ব্যক্ত করলেন নাফীস, ‘আসলেই আমরা হতাশ। টিমের মালিকরাও এ ফলাফল আশা করেন না। টিমের সাফল্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সেটা আমরা পাইনি’।
বিপিএল শুরুর আগে পাকিস্তানীদের না আসার কারণে শেষ পর্যন্ত দল গোছাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে খুলনাকে। এমনও হয়েছে সেরা একাদশই তাদের হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত একাদশ সাজিয়ে মাঠে নেমেছে তারা কিন্তু ফলাফল হয়েছে বাজে। বিপিএলে খারাপ করার পেছনে পাকিস্তানীদের না আসা অন্যতম কারণ কিনা জানতে চাইলে নাফীস বলেন, ‘তখন তো একটা সমস্যা ছিল। দেখা গেছে, আমরা যতগুলো ম্যাচ জিতেছি সবগুলোতে ব্যাটসম্যানরা ভালো খেলেছে। কিন্তু হেরেছি ব্যাটসম্যানদের বাজে খেলার কারণে। আসলে ব্যাটিংটা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ছিল কিন্তু সেটা পারিনি’।
সিলেটের ১৯৬ রানের জবাবে খুলনা ১৩৫ রানে থেমে যায়। দলের পক্ষে একমাত্র মিথুন আলি ৬০ রান করেছেন। বাকি ব্যাটসম্যানরা রান পাননি। অন্যদিকে সিলেটের শিবনারায়ণ চন্দরপল ও পল স্টার্লিং ৬৬ রান করেছেন। নাজমুল হোসেন মিলনও ১৪ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করেছেন, যার মধ্যে পাঁচটি ছয় রয়েছে। যে দলটি গত বিপিএলে সবার নিচে ছিল অথচ এবার তারা অন্যতম শিরোপার দাবিদার। এর রহস্য অবশ্য বলেছেন পল স্টার্লিং, ‘দলের কম্বিনেশন ভালো, তাই সবাই পারফর্ম করছে’।
এ জয়ে সিলেট ১১ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে। ঢাকাও সমান পয়েন্ট, তবে এক ম্যাচ কম খেলেছে তারা।
সিলেট রয়েলস- ২০ ওভারে ১৯৬/৩ (চন্দরপল ৬৬, স্টার্লিং ৬৬, মিলন অপ: ৩৬, চিগুম্বুরা অপ: ১৫, সান্তোকি ১/২১)।
খুলনা রয়েল বেঙ্গলস- ২০ ওভারে ১৩৫/৭ (মিথুন ৬০, ওসেলস অপ: ২৬, হ্যারিস ১৪, নবি ৩/২৮, চিগুম্বুরা ২/১৮)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: পল স্টার্লিং।
ফল: সিলেট রয়েলস জয়ী ৬১ রানে।