ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

আবারও হারল লিভারপুল

কিছুতেই নিজেদের জয়ের ধারায় ফেরাতে পারছে না লিভারপুল। টানা তিন ম্যাচ জয় বঞ্চিত থাকার পর সোমবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তারা নিজেদের মাঠেই হেরে গেল ওয়েস্ট ব্রমউইচের কাছে। স্টিভেন জেরার্ডের পেনাল্টি মিস করা এই ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছে লিভারপুল। খেলার শুরু থেকে লিভারপুলই ছিল ভালো অবস্থায়। তারা প্রথম এগিয়েও যেতে পারত। কিন্তু ম্যাচ শেষের ১৫ মিনিট আগে পেনাল্টি মিস করেন জেরার্ড। এরপরই প্রবলভাবে ফিরে আসে ব্রমউইচ। ৮১ মিনিটে হেডের সাহায্যে প্রথমে গোল করে গ্যারেথ ম্যাকঅলে ওয়েস্ট ব্রমউইচকে এগিয়ে দেন। এরপর স্টপেজ টাইমে ৯০ মিনিটে রোমেলো লুকাকু দ্বিতীয় গোল করে আলবিয়নদের পক্ষে সাত ম্যাচে প্রথম জয় এনে দেন। এই জয়ে লিভারপুলের থেকে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে ৩৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ব্রমউইচ অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুলের অবস্থান এখন নবম। লিভারপুলের বিপক্ষে আলবিয়নদের এটা ছিল টানা তৃতীয় জয়। এছাড়া এই জয়ের মাধ্যমে নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে একটি মধুর প্রতিশোধও নিয়েছে ম্যানেজার স্টিভ ক্লার্ক। গত মৌসুমে কেনি ডালগিশের অধীনে লিভারপুলের সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ক্লার্ক। কিন্তু মৌসুম শেষে ব্যর্থতার দায়ে তাকে ক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ম্যানচেস্টার সিটির সাথে ২-২ গোলে ড্র করে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয়া দলে একটিমাত্র পরিবর্তন করে মূল একাদশ সাজিয়েছিলেন রজার্স। ইনজুরি আক্রান্ত ইংলিশ স্ট্রাইকার ড্যানিয়েল স্টারিজের পরিবর্তে এদিন মাঠে নেমেছিলেন ইংলিশ অনুর্ধ্ব-২১ দলের সাবেক খেলোয়াড় জোনজো শেলভে। অন্যদিকে সফরকারী দলকে শক্তিশালী করতে ফিরে এসেছিলেন লিয়াম রিজওয়েল এবং ইফসুফ মুলুমবু। ম্যাচের শুরুর সাথে মূলত শেষের কোন মিল ছিল না। যথারীতি লুইস সুয়ারেজের প্রচেষ্টা দিয়েই রেডসদের আক্রমণের শুরু হয়েছিল। ডি বক্সের মধ্যে তার একটি জোড়ালো ভলি ব্রমউইচ গোলরক্ষক বেন ফস্টারের ডান দিক দিয়ে বাইরে চলে যায়। স্টুয়ার্ট ডাউনিংয়ের কর্ণার থেকে ড্যানিয়েল আগার এরপর হেড দিয়ে প্রায় গোলই করে ফেলেছিলেন। কিন্তু ড্যানিশ এই ডিফেন্ডারের প্রচেষ্টাও সে যাত্রা ভালভাবেই রক্ষা করেন ফস্টার। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে রজার্সের দল প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধেও তারা সেই ধারা বজায় রেখে খেলতে থাকে। মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন চতুরতার সাথে ব্যাকহিল দিয়ে প্রায় গোলই করে ফেলেছিলেন। কিন্তু ফস্টার কোনরকমে পা দিয়ে বল আটকাতে সক্ষম হয়। এরপর জেরার্ডের একটি শক্তিশালী শটও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক গোলরক্ষক ফস্টার দারুণভাবে একহাতে রক্ষা করেন। ৭৫ মিনিটে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের জন্য সুখবর বয়ে আনে সুয়ারেজের পক্ষে রেফারী পেনাল্টির নির্দেশ দিলে। জোনাস ওলসন নিজেদের ডি বক্সে সুয়ারেজকে বাধা দিলে রেফারী জন মোস স্বাগতিকদের পক্ষে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। কিন্তু জেরার্ডের দুর্বল শট আটকাতে ফস্টারের কোন অসুবিধাই হয়নি। ম্যাচে ফিরে আসার কৌশল হিসেবে ব্রাজিলিয়ান পে¬ মেকার ফিলিপ কোটিনহোকে নামিয়েও লিভারপুল বস ব্যর্থ হন। এটি ছিল কোটিনহোর লিভারপুলের হয়ে অভিষেক ম্যাচ।