আরো গর্জে উঠলো শাহবাগ

রাজধানী জুড়ে শিবিরের তাণ্ডবের প্রতিবাদে আরো গর্জে ওঠলো শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর। সংবাদমাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিবিরের তাণ্ডবের খবর প্রচার হলেও জনতা ভয় পায়নি। কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবি নিয়ে জনতার বাঁধ ভাঙছে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে। এবার বিক্ষুব্ধ মানুষেরা যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসিসহ জামায়াত শিবিরকে আইন করে নিষিদ্ধ করার স্লোগান দিতে থাকে। বিকালে কথা হয় রাজধানীর বাড্ডা থেকে নীরবতা পালন কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা সস্ত্রীক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। ৩৮ বছর বয়সী আমিনুল বলেন, তাণ্ডব চালিয়ে জামায়াত-শিবির ভেবেছিল মানুষ ভয় পেয়ে শাহবাগে যাবে না। কিন্তু এবার বাঙালি জেগেছে, জামায়াত শিবিরকে আর ভয় পায় না। মানুষ জামায়াত শিবিরকে এখন ঘৃণা করে। আমিনুলের স্ত্রী জুই বলেন, বাসা থেকে শুনেছিলাম, জামায়াত রাস্তায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। তাই মগবাজার মোড় দিয়ে আসার সময় ভয় করছিল, এখানে এসে আর ভয় করছে না। তিনি আরো বলেন, গণজাগরণে শিবিরই এখন ভয় পেয়েছে। সেকারণে তারা আন্দোলন না করে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশের মানুষ ঘৃণা করে। এরপর কথা হয় পতাকা হাতে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে, তারা প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এসেছেন খিলগাঁও থেকে। ওই যুবকরা বলেন, দুপুরে শিবিরের তাণ্ডবের কথা শুনেই দোকান থেকে ৭টি জাতীয় পতাকা কিনেছেন। লাঠিসহ এই সাতটি পতাকা নিয়ে শাহবাগে এসেছেন। শিবিরের তাণ্ডবে তারা ভয় পান না। মগবাজার থেকে আসা ব্যবসায়ী ইমরান আহম্মেদ বলেন, জামায়াত-শিবির-রাজাকার তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের জোয়ারে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। রাজাকাররা একাত্তরে মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। তাদের উত্তরসুরী শিবির আজ একই কায়দায় হত্যাকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে। জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে গোটা দেশে জেগে উঠেছে। সন্ধ্যার পর শাহবাগের মূল মঞ্চের সীমানা ছাড়িয়ে পশ্চিমে কাঁটাবন, পূর্বে শিশুপার্ক ও মত্স্য ভবন, উত্তরে রূপসী বাংলা হোটেল, দক্ষিণে টিএসসি ও দোয়েল চত্বর এলাকা পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে। সন্ধ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিচারের দাবিতে আরো উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে শাহবাগ। মানুষ দলে দলে খণ্ড খণ্ডভাবে বসে পড়েন শাহবাগের বিভিন্ন রাস্তার উপর। জাতীয় পতাকা, মোমবাতি, যুদ্ধাপরাধীদের ব্যঙ্গাত্মক চিত্রকর্ম, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে আসা নানা দল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবির স্লোগান উঠতে থাকে।