বৈরী আবহাওয়া
নিয়ে দুশ্চিন্তা
সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেট অঞ্চলের মাঠে-প্রান্তরে এখন বোরো ধানের ম-ম গন্ধ। মাঠজুড়ে সোনালী ধান কাটা ও মাড়াইয়ের মনোহর দৃশ্য। কেউ ধান কেটে ঘরে আনছে, কেউ বা খলায় শুকাচ্ছেন। অনেক স্থানে আবার ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। হাজার হাজার কিষাণ-কিষাণি মাঠে ব্যস্ত সময় কাটাছে। প্রকৃতিনির্ভর এই বোরো ফসলকে ঘিরে ভাটির জনপদে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে এখন। চোখে-মুখে কিষাণ-কিষাণির হাসি। শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হাওরগুলোর কাঁচাধান সময়মতো পাকতে শুরু করে।
কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ধেয়ে আসার সংবাদে কৃষকসহ সংস্লিষ্টরা বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েন। মাঠপর্যায়ে শুরু হয় সামাল সামাল ডাক। কত দ্রুত স্বপ্নের ধান গোলায় তোলা যায়। ধান কাটার শ্রমিক সংকটে তারা বিপাকে পড়েছেন। গত ক’দিনের ঝলমলে রোদ শেষে বৃহস্পতিবারের বৈরী আবহওয়ায় কৃষকদের বুকে কাঁপন দেয়। কৃষকরা ভাবছেন শেষ সময় পাকা ধান ঘরে নিতে পারবেন তো? সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধূরী ইত্তেফাককে জানান, ‘ফণী’ দুর্বল হয়ে আসছে, এটার তেমন প্রভাব পড়বে না সিলেট অঞ্চলে। তিনি জানান, যে বৃষ্টি হচ্ছে তা স্বাভাবিক সময়ের। আগের বছর এপ্রিলে বৃষ্টি হয়েছিল প্রায় ৩৭৬ মিলিমিটার। এবার বৃষ্টি হয়েছে ৩২৬ মিলিমিটার।
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহজাহান ইত্তেফাককে জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিলেটের চার জেলায় গড়ে ৬৪ ভাগ বোরো ফসল কাটা হয়েছে। প্রতিদিন তার পরিমাণ বাড়ছে। তা ছাড়া, সিলেটে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। তিনি জানান, সরকার ৭০ ভাগ ভর্তুকি দিয়ে সিলেটে ২৪২টি ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ ও ১ হাজার ৫১টি রিপার যন্ত্র দিয়েছে। এসব যন্ত্র দিয়ে দ্রুত রোপণ ও কাটামাড়াই করেছেন কৃষকরা। সিলেট অঞ্চলে সম্পূর্ণ প্রকৃতিনির্ভর এই বোরো ধান ঘরে উঠলেই এ অঞ্চলের মানুষ মহাখুশি। কারণ এখানে বিকল্প কর্মসংস্থানের তেমন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি।
সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বেশি বোরো উত্পাদন হয় সুনামগঞ্জ জেলায়। তাই সরকার এবার সাড়ে ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাওররক্ষা প্রকল্প হাতে নেয়। পিআইসির মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ৫৭২টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। ‘বাঁধগুলো এখন ফসল সুক্ষার কাজ করছে,’ ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের কর্মকর্তরা মাঠেই থাকবেন। গত ২১ এপ্রিল বোরোপ্রধান সুনামগঞ্জ জেলায় আনন্দঘন পারিবেশে খরচার হাওরে ‘ধান কাটা উত্সব ২০১৯’ এর উদ্ভোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবদুল আহাদ। এ দিন জেলার ১১টি উপজেলায় ধান কাটা উত্সব পালিত হয়।
এবার সিলেটের চার জেলায় ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ১০৫ মেট্রিক টন চাল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এবার বোরো মৌসুমে সিলেটের চার জেলায় মোট ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ হেক্টর জামিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৪০ হেক্টর, হবিগঞ্জে ১ লাখ ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর, সিলেটে ৭৯ হাজার ৭৬৭ হেক্টর ও মৌলভীবাজারে ৫৩ হাজার ১৬২ হেক্টরে বোরো চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ১০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়। আশা করা হচ্ছে, সব কিছু ঠিক থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল উত্পাদন হবে সিলেট বিভাগ থেকে।