শেখ জামালের প্রথম হার

গোপালগঞ্জে শেখ রাসেল ২-০ গোলে মুক্তিযোদ্ধাকে হারালেও তাদের আফসোস থেকেই গেল। কেননা ঢাকায় আবাহনী ১-০ গোলে শেখ জামালকে হারিয়ে দুই পয়েন্টের ব্যবধান গড়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে এলো। শিরোপা জয়ের পথে আরো একটা বড় বাধা পার করেছে আবাহনী। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনীর গুরুত্বপূর্ণ এ জয়ে গোলটি করেন শাখাওয়াত হোসেন রনি। আবাহনী শুধু ম্যাচই জেতেনি, একই সাথে শেখ জামালকে প্রথম লিগ হারের বিস্বাদ দেয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলাটির আগ পর্যন্ত একমাত্র শেখ জামালই হারহীন ছিল। কাল ১২ নম্বর ম্যাচে হেরে আগের অর্জন ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে এলো শেখ জামাল। অপরদিকে সমানসংখ্যক খেলায় আবাহনী ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে এবং ১১ খেলায় শেখ রাসেল ২৫ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলো। শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে শেখ জামালের কাজটা কিছুটা কঠিনই হয়ে গেল। যদিও ক্লাবটির কোচ ও কর্মকর্তারা মনে করছেন এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি। কেননা সামনে আরো খেলা বাকি। গত এগারটি ম্যাচে শেখ জামালের যে তেজ দেখা গিয়েছিল কাল আবাহনীর বিরুদ্ধে তা ছিল উধাও। অগাষ্টিন, সানডে চিজোবা, সবুজ সোহেলদের খেলা ছিল নিষ্প্র্রভ। আবাহনীর মতো একটা বড় দলের বিরুদ্ধে তেজদীপ্ত ফুটবল খেলে যেভাবে নিজেদের শক্তিটা বুঝিয়ে দিতে হয়, তা দেখাতে পারেনি নাইজেরিয়ান কোচ জোসেফ আফুসির দল। একটা ভুলের কারণে গোল হজম করে শেখ জামাল। আর তা দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে আবাহনী ম্যাচটি নিজেদের অনুকূলে নিয়ে নেয়। অথচ ম্যাচের শুরুতে ভালো খেলে এগিয়ে ছিল শেখ জামাল। এগিয়ে ছিল বল দখলের লড়াইয়েও। ১৯ মিনিটের সময় শেখ জামালের ডিফেন্ডার নাসির, ইয়ামিন, হাসান আল মামুন, রায়হান আর গোলকিপার সুলতান আহমেদ শাকিলের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সুযোগে ঘানাইয়ান ফরোয়ার্ড আউডু ইব্রাহিমের কাছ থেকে বল পেয়ে গোল করেন শাখাওয়াত হোসেন রনি (১-০)। স্থানীয় ফুটবলারদের মধ্যে রনি ছয় গোল করে এগিয়ে থাকলেন। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সবার উপরে আছেন মোহামেডানের ঘানাইয়ান ওসে মরিসন। তার গোল আটটি। রনির লক্ষ্যভেদের মিনিট তিনেকের মধ্যে আবাহনী আরো দুইবার গোলের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ভাগ্য ভালো শেখ জামালের। বল জালে জড়ায়নি, বাইরে চলে গিয়েছিল। মাঝমাঠ থেকে প্রাণতোষের বাড়ানো বিপজ্জনক বল পেয়ে ইব্রাহিম শট নিয়েছিলেন। সেটা থামিয়ে দেন ডিফেন্ডার নাসির। এরপরই বাঁদিক থেকে মিশুর বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শট অল্পের জন্য সাইড পোষ্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে স্টেডিয়ামে থাকা আবাহনী দর্শকরা নড়ে উঠেন। কিন্তু গোল হজম করেও শেখ জামালকে জেগে উঠতে দেখা গেল না। বরং মনে হলো একটি গোলই সব সর্বনাশ করে দিয়েছে। তার উপর শেখ জামালের উইংগার শাকিল ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়লে আরো বিপদে পড়েন কোচ আফুসি। ম্যাচের ঝাঁঝ বাড়াতে অধিনায়ক হাসান আল মামুনকে তুলে নিয়ে শাহেদুল আলম এবং সবুজের বদলে সোহেলকে আক্রমণে নামান কোচ। তাতে একটুও লাভ হয়নি। কারণ দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনীর লক্ষ্য ছিল শেখ জামালকে আটকে রাখা। এর মধ্যে গোল পেলে ভালো, না হলে ১-০ নিয়েই সন্তুষ্ট। ইরানী কোচ আরদেশীর পরণামাথের পরিকল্পনা সফল হয় এদিন। ম্যাচ জিতে তিন পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরেছে দল। আরদেশীর মতে শেখ জামাল দুই দিন আগে গোপালগঞ্জে খেলে এসেছে। তাই খেলোয়াড়রা ক্লান্ত ছিল। কিন্তু শেখ জামালের কোচ আপুসি বলেছেন উল্টো কথা। তিনি বলেন, ‘আমি তো জানি গোপালগঞ্জের পর এখানে বড় ম্যাচ। সেই ফিকশ্চার জেনেই খেলছি।’ আবাহনীর জয়ের কারণে গোপালগঞ্জে শেখ রাসেল ২-০ গোলে মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েও পেছনে পড়ে থাকলো। এই ম্যাচে রেজাউল করিম রেজা ৪৪ মিনিটে এবং মরোক্কান ফুটবলার তারিক জনাবী ৭৩ মিনিটে গোল করেন। মুক্তিযোদ্ধা নিজেদের মাঠে টানা দুটি ম্যাচে হারল। ১২ খেলায় মুক্তিযোদ্ধার পয়েন্ট ১৫। লিগে তাদের অবস্থান এখন ষষ্ঠ। ইত্তেফাকের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল বুধবার স্থানীয় শেখ ফজলুল হক মনি ষ্টেডিয়ামে খেলা শুরুর আগেই বিপুল দর্শকের সমাগম হয়। উভয় দলের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যকে উপস্থিত দর্শকরা বিপুল করতালির মাধ্যমে উত্সাহিত করেন। আজকের খেলা ঃ মোহামেডান ও বিজেএমসি (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, সাড়ে চারটা)