বাসন্তী উত্সবে ভালোবাসার আমন্ত্রণ

আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।/ তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/ কোরো না বিড়ম্বিত তারে — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাগ্রত বসন্তকে বিড়ম্বিত করেনি রাজধানীবাসী। সবাই যেন বাসন্তী উত্সবে মেতে উঠেছিল। কিন্তু প্রেরণায় ছিল ‘শাহবাগ আন্দোলন’। হলুদ ও বাসন্তী রঙের শাড়ি, খোঁপায়, গলায় গাঁদা ফুলের মালা জড়িয়ে, হাতে চুড়ি পরে এসেছিল মেয়েরা। ছেলেরাও কম যায়নি, বাসন্তী ও লাল পাঞ্জাবি পরে রাঙিয়ে তুলেছিল বইমেলা প্রাঙ্গণ। কিন্তু প্রত্যেকের মাথায় ছিল ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই’ সংবলিত ব্যান্ড। গতকাল শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চারুকলার বকুল চত্বর, টিএসসিসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা উত্সবের বাসন্তী আনন্দে মেতে উঠেছিল। এইসব আনন্দ স্রোত এসে মিশেছিল বইমেলা প্রাঙ্গণে। সেই বাসন্তী উত্সবে মেতে সবার প্রতীক্ষা যেন আজকের ভালোবাসার দিনটির জন্য (ভ্যালেন্টাইনস ডে)। কবি মহাদেব সাহার কবিতায় বসন্তের সেই ভালোবাসার ডাক পাওয়া যায়: বসন্তকে আমি বলি কবি, তার হাতে রচিত হয়/পৃথিবীর প্রেমের কবিতা/...। বসন্ত ঋতুর সঙ্গে ফাগুনের সঙ্গে একুশে নিবিড়ভাবে জড়ানো। বসন্তের এই মাসটি বাঙালি হূদয়ে অন্তরঙ্গ আবেগের সুরতরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। জীবনের দুঃখ-বেদনা, যন্ত্রণা এই প্রবল আবেগের কাছে পরাভূত। শাহবাগের গণজাগরণ থেকে সবাই এসেছেন বইমেলা প্রাঙ্গণে। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দিবস উপলক্ষে আজও মেলা জমজমাট থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন প্রকাশকরা। নজরুল মঞ্চের চিত্র : বুধবার মেলার ১৩তম দিনে ১৭টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সূচিপত্র থেকে প্রকাশিত হারুন রশীদের ‘তিন উপন্যাস/শোকের শহরে’, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডা. শিরিন শারমিন চৌধুরী বিদ্যা প্রকাশনীর শামসুদ্দিন আজাদের ‘গণতন্ত্র ও আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি’, আহসান হাবীব বিভাস থেকে আহসান কবীরের ‘পাক নয় পাকি বলুন’, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক দিব্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত সিনহা আবুল মনসুরের ‘হুমায়ূন একজন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ মোড়ক উন্মোচন করেন। এদিকে গতকাল সূচিপত্র প্রকাশিত আশা নাজনীনের গ্রন্থ ‘শাশুড়ি পুরাণ’ এসেছে মেলায়। মূলমঞ্চের আয়োজন : বুধবার বিকালে মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘কামরুদ্দীন আহমদ : সমাজ ও জীবনদর্শন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। আলোচনার শুরুতে সদ্যপ্রয়াত লেখক-সাংবাদিক আবদুল মতিনের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ড. মুহাম্মদ সামাদ, ড. জালাল ফিরোজ এবং লেখক আহমাদ মাযহার। সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান।