সোমেশ্বরী নদীর উজানে বাঁধ

ঝিনাইগাতীতে সেচ সংকটে কৃষক বোরো চাষ ব্যাহতের আশংকা

সোমেশ্বরী নদীর উজানে অবৈধ বাঁধ, বিদ্যুতের লোডশেডিং, তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও সেচ সুবিধার অভাবে চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতী উপজেলায় বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ উপজেলার কৃষকরা গভীর-অগভীর নলকূপ ও নদী-নালার পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে ইরি-বোরো চাষাবাদ করে থাকে। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভূ-গর্ভস্ত পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় ও নদী-নালাগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এ উপজেলায় সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। ইতিমধ্যেই ৬০ ভাগ জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ উপজেলায় মোট জমির পরিমাণ ১৮ হাজার হেক্টর। শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার কৃষকরা নদী-নালার পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে ৫ হাজার হেক্টর জমি ও গভীর-অগভীর নলকূপের পানিতে চাষাবাদ করে ৭ হাজার হেক্টর জমি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় বোরো চাষে ব্যবহূত নলকূপ রয়েছে গভীর ৪২টি, অগভীর ১৭২৪টি, এলএলপি ৬২৫টি সাব-মার্চ গভীর ৪টি ও অগভীর ৭০টি। সরেজমিনে গিয়ে কালিনগর, দাড়িয়ারপাড়া গ্রামের কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানান গেছে, সোমেশ্বরীর নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে উপজেলার মাদারপুর, বিলাসপুর, দুপুরীয়া, ধানশাইল, বাগেরভিটা, দাড়িয়ারপাড়, কালিনগর, নামাপাড়া, বালুরচর, বালিয়াগাঁও, পাইকুড়া, নগেশ্বর, কোনাগাঁও, মাটিয়াপাড়া ছুরিহারাসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৫ হাজার কৃষক ইরিবোরো চাষাবাদ করে থাকে। কৃষকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঢলের পানিতে তাদের জমিগুলোতে জলাবদ্ধতার কারণে আমন চাষ করতে পারেন না। এসব এলাকার কৃষকদের প্রধান ফসল বোরো আবাদ। কিন্তু সোমেশ্বরী নদীর উজানে পার্শ্ববর্তী শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ীতে অবৈধভাবে নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে পানির গতিপথ বন্ধ করে দেয়ার কারণে প্রতি বছর বোরো চাষ ব্যাহত হচ্ছে। এবারও ঝিনাইগাতী উপজেলায় সোমেশ্বরী নদীর উজানে বালিজুড়ী, তাওয়াকুচা, বিষ্টপুর, কাংশা, বাগেরভিটা ও আয়নাপুরসহ ৬টি অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। উভয় উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে এ ব্যাপারে বহু দেন-দরবারের পরেও পানি সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে সেচ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।