দশ বছর পর হতে যাচ্ছে বেগমগঞ্জ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল

এক দশক পর বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি। বেগমগঞ্জ আওয়ামী লীগে কোন্দলের অবসান হবার আশা অনেকে করলেও, কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে কোন্দলের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবার আশংকা দেখা দিচ্ছে। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশার ছায়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, একসময় বেগমগঞ্জ তথা চৌমুহনী বৃহত্তর নোয়াখালী জেলায় রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল। ধীরে ধীরে নেতাদের মধ্যে গ্রুপিং রাজনীতির প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় তা কর্মী-সমর্থকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ১৯৭৩ সনের পর থেকে নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারেনি। স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলও এর বাইরে নয়। সর্বশেষ ২০০৩ সালে বেগমগঞ্জ আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় মরহুম আবদুর রব চেয়ারম্যান ও মামুনুর রশীদ কিরণ সভাপতি পদের জন্য প্রার্থী ছিল। কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ। এক পক্ষ মিছিল নিয়ে আসার সময় অপর পক্ষের সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ, এমনকি গুলিও ছুঁড়েছিল। সেই কাউন্সিলে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমদ। তিনি কৌশল অবলম্বন করে ডাঃ এ বি এম জাফর উল্যাকে সভাপতি, মামুনুর রশীদ কিরণকে সাধারণ সম্পাদক এবং আবদুর রব চেয়ারম্যানকে জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি করে কমিটি ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। বর্তমান সভাপতি ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ। কিরণ সভাপতি পদে প্রার্থী হবেন। তাছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট আখতারুজ্জামান আনসারি, বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ বেগম, শেখ মহিউদ্দিন, মোঃ জালাল আহমেদ, মোঃ সামছুল হক, মাহবুবুর রহমান ও বিনয় কিশোর রায় এর নাম শোনা যাচ্ছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ডাঃ এ বি এম জাফর উল্যা জানান, জাতীয় নির্বাচন আসন্ন, তাই দলের প্রয়োজনে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী যা কিছু করতে হয় তাই করতে প্রস্তুত আছি। সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ কিরণ জানান, দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের আহবানে সাড়া দিয়ে সভাপতি পদে প্রার্থী হবো। পৌর আওয়ামী লীগ সম্মেলন ১৭ ফেব্রুয়ারি একদশক পর চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি। সম্মেলনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদে চারজন, সাধারণ সম্পাদক পদে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের মার্কা সম্বলিত আকর্ষণীয় রঙিন পোষ্টার শহরের সর্বত্র শোভা পাচ্ছে। ২০০৩ সালে চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল। দীর্ঘ এক দশক পর ১৭ ফেব্রুয়ারির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ আর উত্তেজনার কমতি নেই। সভাপতি পদে আখতার হোসেন ফয়সাল, শাহাবুদ্দিন কাজল, মোহাম্মদ উল্যা মিয়া ও ছাইদুল হক ছাদু মোট চারজন, সাধারণ সম্পাদক পদে আনোয়ারুল আমীন তুহিন, মোঃ মুজিবুর রহমান বাচ্চু, রেজাউল করীম চন্দন, আবু বকর ছিদ্দিক টিপু, ইসমাইল হোসেন বাবলু ও বেলায়েত হোসেন বেল¬াল মোট ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্রার্থীতার মধ্যেও বেগমগঞ্জের গ্রুপিং রাজনীতির হাতছানি রয়েছে।