এবারের বসন্ত উত্সবে প্রতিবাদ, প্রতিরোধের আহ্বান
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫১
কোকিলের কুহুতান আর গাছে নতুন পাতা বসন্তের আগমনী বার্তাকে জানান দিলেও এবারের বসন্ত এসেছে ভিন্ন বার্তা নিয়ে। তাইতো বসন্ত উত্সবে পৌঁছানোর আগেই শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে শোনা গেলো—‘রাজাকারের কালো দাগ এই বসন্তে মুছে যাক’ শ্লোগান। পঞ্জিকার নিয়ম অনুসারে বসন্তের আগমনী দিনকে স্বাগত জানাতে উত্সবের আয়োজন হলেও সে আয়োজন ছিল প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আর দাবি আদায়ের কবিতা, নৃত্য, গানে সাজানো।
গতকাল বুধবার ফাগুনের প্রথম প্রভাতে জাতীয় বসন্ত উত্সব উদ্?যাপন পর্ষদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলা ও ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর মুক্তমঞ্চে উদ্যাপিত হয় বসন্তবরণ অনুষ্ঠান। বর্ণিল সাজে নানা বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে নাচে-গানে বরণ করে নেয়া হয় ঋতুরাজ বসন্তকে। প্রতিবছরের মতো এবারও বকুলতলায় সকাল সোয়া ৭টায় শিউলি ভট্টাচার্যের বেহালার সুরের মূর্ছনায় শুরু হয় বসন্তবরণের অনুষ্ঠান।
প্রকৃতিতে নতুন স্নিগ্ধতার ঢেউ খেলা করলেও বাঙালির হূদয়ে আজ বইছে প্রতিবাদের ঢেউ। দীর্ঘ ৪২ বছরের আগে সংঘটিত হওয়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ আন্দোলনের মহাযজ্ঞ। খ্রীষ্টিয় ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারি মাসে বসন্ত আসে বলে একে বলা হয় আন্দোলনের ঋতু। এ ঋতুতেই বাঙালি করেছিল ভাষার জন্যে আন্দোলন। ফুল ফোটানো এই বসন্তে ফুটেছে বাঙালির আন্দোলনের ফুল। তাইতো এ বসন্তকে তারুণ্যের অভিবাদন। ফুল পাতা আর রঙিন প্রজাপতি দিয়ে সাজানো মঞ্চে গণসংগীত, প্রতিবাদী নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার পরিচালনায় সুরের ধারা সংগীত পরিবেশন করে, নৃত্যনন্দন পরিবেশন করে প্রতিবাদী নৃত্য। বসন্ত কথনে শফিউদ্দিন আহমেদ জানান, যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবির কারণে এবারের বসন্ত উত্সব সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফ বলেন, আরেক মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। দেশকে কলুষমুক্ত করতে। তাই আজকের বসন্ত উত্সবকে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবাদী ধ্বনিতে। অনুষ্ঠানে প্রীতিবন্ধনী পরিয়ে দেয়া হয় হাতে। রাজাকারের ফাঁসির দাবি জানিয়ে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানের মধ্য দিয়ে বসন্ত উত্সবের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হয়। একই স্থানে বিকালে শুরু হয় উত্সবের দ্বিতীয় পর্ব, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চেও বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ছিল বাসন্তী আয়োজন।