ক্ষুদ্র ঋণের নামে গরীব শোষণ বন্ধে সজাগ থাকুন :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুদ্র ঋণের নামে যাতে দরিদ্র মানুষকে শোষণ করা না হয়, সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দারিদ্র্য লালন নয়, নির্মূল করা হচ্ছে তার সরকারের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না ঋণের বোঝায় মানুষ দুস্থ জীবনযাপন করুক। তিনি গতকাল সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ২৩ বছর পূর্তি উদযাপন ও উন্নয়ন মেলা-২০১৩ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি ঋণের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বিধিবদ্ধ করেছে। এসব বিধিবিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলে সক্রিয় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার প্রাক্কালে ক্ষুদ্র ঋণ খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার কোটি টাকা এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ৪ বছরে এই ঋণ প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই প্রান্তিক এবং খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সবাইকে দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্র থেকে বের করে নিয়ে আসা। এজন্য আমরা মানুষের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের উপর গুরুত্ব দিয়ে আসছি। তার সরকার ‘রূপকল্প ২০২১’-এ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বছরে প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করেছে এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জনে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব মন্দা সত্ত্বেও সরকারের অনুকূল নীতি এবং আর্থিক সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫টি উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন, তার সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও অসহায় নারী, অসচ্ছল প্রসূতি মা, অসচ্ছল পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ৮৪টি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশের স্বাধীনতা আনয়নকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, শান্তিময় ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে আমরা দেশবাসীর সমর্থন চাই। এর আগে প্রধানমন্ত্রী পিকেএসএফ পরিচালিত অতি দরিদ্রদের জন্য মাইক্রো-ক্রেডিট কর্মসূচির উপকার ভোগীদের মধ্যে তিনজন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির টাকা তুলে দেন। পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. খলিকুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বক্তৃতা করেন।