সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন বিল উত্থাপন
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৩
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যে কোন রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার সুযোগ রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ সংশোধনের বিল সংসদে পাসের জন্য চূড়ান্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল বুধবার রাতে বিশেষ বৈঠকে কিছু সংশোধনী এনে বিলটি চূড়ান্ত করা হয়। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ যে কোন ব্যক্তি আপিল করতে পারবে বলে যে প্রস্তাব বিলে করা হয়েছিল, সেটি বাদ দিয়েছে কমিটি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। আজ বিলটি সংসদে পাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হয়। ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৩’ উত্থাপন করেন। এরপর স্পিকার বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠান।
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটি নীতিগত অনুমোদন পায়।
প্রস্তাবিত আইনে, সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষ বা দণ্ডপ্রাপ্তরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারলেও আসামি যে অভিযোগ থেকে খালাস পাবেন, কেবল ওই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধেই সরকার আপিল করতে পারে। বিলে অপর্যাপ্ত শাস্তি বা খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করার বিধান রাখা হয়েছে।
আইনটি সংশোধন হলে পুরো রায়ের বিরুদ্ধেই আপিল করা যাবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিককে আইনের সমান আশ্রয় লাভের যে অধিকার দেয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল আইনে এই বিধান প্রতিফলিত হয়নি। ট্রাইব্যুনালের বিচারের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আইনের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বর্তমান সরকারের সময় এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩-এর দুই দফা সংশোধনী আনা হয়। ২০০৯ সালের ৯ জুলাই মাসে আনা সংশোধনীতে কেবল খালাসের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সুযোগ সংযোজন করা হয়। মূল আইনে শুধু আসামি পক্ষের আপিলের বিধান ছিল। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফা সংশোধনীতে আপিলের সময়সীমা ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়। আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারের বিধানও সংযুক্ত করা হয়। এক ট্রাইব্যুনাল থেকে আরেক ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া যে দিন রায় হবে, সে দিনই রায়ের সত্যায়িত কপি উভয় পক্ষকে দেয়ার বিধান করা হয়।