সমাজ সংস্কারে বিশ্বনবী (স.)-এর অবদান

(পূর্ব প্রকাশের পর) মূলত ইসলাম নারী জাতিকে এক করুণ অমানবিক অবস্থা থেকে উদ্ধার করে তাদেরকে মানুষ হিসাবে যথাযোগ্য অধিকার এবং সম্মানজনক মর্যাদা নিশ্চিত করে, পবিত্র কুরআন মাজীদে নারীদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে- আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের ওপর অধিকার রয়েছে, তেমনিভাবে স্ত্রীদেরও নিয়ম অনুযায়ী পুরুষদের ওপর অধিকার রয়েছে। আর নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।আর আল্লাহ হচ্ছে পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ (সূরা আল-বাকারা-২২৮)। স্ত্রী হিসাবেও ইসলাম নারীর অধিকার সংরক্ষণ করেছে। পবিত্র কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে- তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরাও তাদের পরিচ্ছদ। (সূরা আল-বাকারা-১৮৭) নারীরা হচ্ছে মায়ের জাতি। মায়ের মর্য়াদা সম্পর্কে মহানবী (স.) বলেন- মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত। একজন সাহাবী নবী কারীম (স.) এর নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন-আমার নিকট খেদমত পাবার সবচেয়ে বেশী হকদার কে? রাসূল (স.) বললেন- তোমার মা। সাহাবী বললেন-তারপর? রাসূল (স.) বললেন- তোমার মা। সাহাবী বললেন-তারপর? রাসূল (স.) বললেন- তোমার মা। সাহাবী বললেন-তারপর? রাসূল (স.) বললেন- তোমার পিতা এবং তারপর পর্যায়ক্রমে তোমার আত্মীয় স্বজন (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী,আবু দাউদ শরীফ)। পরিশেষে বলা যায়, রাসূল (স.) এর মধ্যে সততা, আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায়, দুরদর্শিতা, উদারনীতি ছিল বলেই তিনি তাঁর ওপর অর্পিত কাজ সুসম্পন্ন করে গেছেন। নারীর ইজ্জত উন্নয়ন, ইয়াতিমের অধিকার, দাস-দাসীদের অমানবিক অত্যাচার থেকে উদ্ধার, সকল প্রকার হানাহানি থেকে মুক্ত করে যে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, দুনিয়ায় সামাজিক সংস্কারের ইতিহাসে তাঁর অনুরূপ দৃষ্টান্ত আর নাই। ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন- His life is the noblest record of a work nobly and faithfully performed. অর্থাত্ একটি (অর্পিত) কাজ চমত্কার এবং বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন করার শ্রেষ্ঠ প্রমানই হচ্ছে তাঁর (পবিত্র) জীবন। রাসূলে কারীম (স.) এর পবিত্র জীবন থেকে যাতে আমরা শিক্ষা নিতে পারি মহান আল্লাহর কাছে সেই তাওফিক কামনা করছি, আমীন ! ড. মুহা. বিলাল হুসাইন