মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ

বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একটি নতুন দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা শুরু করতে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী জুন মাস নাগাদ এ ব্যাপারে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। এক যৌথ বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ইইউ নেতারা বলেছেন, তারা উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে উন্নয়নের একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসাবে রূপান্তরিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ইতিমধ্যেই দৈনিক দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি দাঁড়িয়েছে। এখন তারা পরিকল্পনা করছেন, উভয়ের মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বাধাগুলো রয়েছে তা কমিয়ে আনা কিংবা কোন কোন ক্ষেত্রে একেবারেই দূরীভূত করা। তাদের পক্ষ থেকে আরো বলা হচ্ছে, শুল্ক কমিয়ে এনে বিশেষ করে কৃষি ও শিল্পের মালামাল আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনে শুল্ক তুলে দিয়ে উভয়ের মধ্যে সম্পর্ককে আরো কাছাকাছি পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে কিছু স্পর্শকাতর পণ্যের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা বজায় থাকবে। পণ্যকে উচ্চমূল্যে করে তোলার পেছনে দায়ী মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ আরো কিছু বাধা দূর করার পরিকল্পনাও এতে থাকছে। তবে আশার কথার পাশাপাশি নিরাশার কথাও বলা হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী ও ইইউ ট্রেড কমিশনার পিটার ম্যান্ডেলসন বলেন, এ বিষয়গুলো সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করা ততটা সহজ হবে না। বিবিসির অর্থনৈতিক সংবাদদাতা বলেছেন, ইউরোপ নতুন পণ্যের প্রবেশাধিকার দেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জেনেটিকালি মডিফায়েড পণ্যের ব্যাপারে ইউরোপ অতীতেও বাণিজ্য বিরোধে জড়িয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট হোসে ম্যানুয়েল বারোসো অবশ্য বলছেন, এই চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সফল হলে প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সমপ্রসারণ হবে, যা বিশ্বে বাণিজ্যে বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।