সরাসরি ফাইনালের লড়াই আজ
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৭
এই কায়দাটা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আগেই করে দেখিয়েছে। এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগও (বিপিএল) সেই রেস টু ফাইনালের পথে হাঁটছে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল ‘রেস টু ফাইনাল’ নামে এক ম্যাচে মুখোমুখি হবে; সেখানকার বিজয়ী দল সরাসরি খেলবে ফাইনালে। আজ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ও সিলেট রয়েলস মুখোমুখি হবে ফাইনালে ওঠার এই লড়াইয়ে।
অবশ্য নতুন এই ব্যবস্থায় পরাজিত দলেরও পুরোপুরি হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে তারা তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানের বিজয়ী দলের বিপক্ষে খেলার একটা সুযোগ পাবে; সেখানে জিতলে ফাইনালের দরজা খোলা।
ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে আজকের ফাইনালের লড়াইয়ে পরিষ্কার কাউকে ফেবারিট বলা কঠিন। দুই দলই দারুণ ধারাবাহিক এবং দলও একইরকম ভারসাম্যপূর্ণ। স্থানীয় খেলোয়াড় ও বিদেশিদের নিয়ে সিলেটের গতি থেমে নেই। পাশাপাশি গতবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকার আছে মাশরাফি, সাকিব, আশরাফুলের মতো তারকা ব্যাটসম্যান। সঙ্গে আজকের ম্যাচে যোগ হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই খেলোয়াড় কিয়েরন পোলার্ড ও ক্রিস গেইল। সমানভাবে পাল্লা দিয়ে বিপিএলের শীর্ষ দুইটি স্থান দখল করেছে তারা। আবার এদের মধ্যেই একটি দলের সুযোগ হচ্ছে সরাসরি ফাইনাল খেলার। গ্রুপ পর্বে দুই বার মুখোমুখি হয়েছে ঢাকা ও সিলেট। সে লড়াইয়েও ১-১ সমতা ছিল!
এমন নিয়মের সাথে অনেকের মতো বিরোধ থাকতে পারে; কিন্তু এমন নিয়মকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের কোচ ইয়ান পন্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা একটা ভালো নিয়ম। উপরের সারির দুইটি দল একে অন্যের বিপক্ষে খেলবে। যে জিতবে তারা সরাসরি ফাইনালে উঠবে, যারা হারবে তারা দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে। এটা আইপিএলেও হয়েছে। খেলোয়াড় ও দলের জন্য দিনশেষে একটা ভালো সুযোগ থাকছে’।
গেইল ও পোলার্ড যোগ হওয়ায় ‘রেস টু ফাইনালে’ ঢাকার শক্তি অনেক বেড়ে যাওয়ার কথা। তবে পন্ট মানলেন না তা। এ দুই জনের অন্তর্ভুক্তিকে দলের জন্য ভালো বলছেন তিনি; অপরিহার্য নয়, ‘জয়ের আশা করেছি বলে আজ আমরা এখানে। গতবছর আমি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিলাম, আমরা এখানে জিততে এসেছি। এখানে অবশ্যই আমরা দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় হতে আসিনি। যেটা গত বছর করে দেখিয়েছি। গেইল ও পোলার্ড দলের সঙ্গে যোগ হওয়ায় অবশ্যই এটা আমাদের দলের জন্য ভালো দিক। গেইল বিস্ময় জাগানো খেলোয়াড়। সে বাংলাদেশে খেলতে পছন্দ করে। আমার যতটুকু মনে পড়ে, সে যখন সিরিজ খেলতে এখানে এসেছিলেন, বারবার সোহাগ গাজীর কাছে পরাস্ত হচ্ছিল। আমার মনে হয়, কালও (আজ) গাজী ও গেইলের যুদ্ধ হবে। আর পোলর্ডের কথা বলবো, সে তো মারকুটে ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সে সেঞ্চুরি করে এসেছে। শেষ ম্যাচে তিনটি উইকেটও নিয়েছে।’
‘রেস টু ফাইনালে’ ঢাকার বিরুদ্ধে মাঠে নামতে কি ধরনের অস্ত্র রয়েছে সিলেটের? সিলেটের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন দলের শক্তির রহস্যের কথা বললেন। কি অস্ত্র সেটাও ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘যেকোনো দলের বিরুদ্ধে আমাদের দলের কম্বিনেশনই হচ্ছে মূল শক্তি। বিপিএলের শুরু থেকে প্রত্যেকটি খেলোয়াড়ের মধ্যে চমত্কার বোঝাপড়া রয়েছে। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিরুদ্ধে কাল (আজ) আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। নিঃসন্দেহে তারা শক্তিশালী দল। আমার বিশ্বাস, খেলোয়াড়রা অতীতের ম্যাচগুলোর মতো কালও (আজ) নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলবে’।
গত ম্যাচে সিলেট বরিশাল বার্নার্সের বিরুদ্ধে এক উইকেটে জিতেছে। ‘রেস টু ফাইনালের’ আগে ম্যাচ জয়ের এই ব্যবধান কি হতাশ করবে না? না। উল্টো এই জয় থেকেও অনুপ্রেরণা খোঁজ করছেন সিলেট কোচ, ‘বরিশালের বিরুদ্ধে জেতার পর আমাদের ভিতরে বাড়তি একটা অনুপ্রেরণা কাজ করেছে। লক্ষ্য করে থাকবেন, আমরা বেশ কিছু খেলোয়াড় সেই ম্যাচে বিশ্রাম দিয়েছিলাম। যারা খেলেনি তাদেরকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। তারা তাদের কাজটি সঠিকভাবে করতে পেরেছে। এটা থেকে পরিষ্কার, যেকোনো অবস্থানে দলের সব খেলোয়াড় খেলতে পারবে। এবং তারা খেলার জন্য ফিট। এটাই আমাদের আত্মবিশ্বাসের পারদটা বাড়িয়ে দিয়েছে’।