শ্লোগান চলছেই ...

গোলাম আযমের পক্ষে সাক্ষ্য বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য বন্ধ করে আগামী রবিবার থেকে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষী হাজির করতে না পারায় বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ নির্দেশ দেন। এদিকে, একই ট্রাইব্যুনালে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি’র বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২০তম সাক্ষী চট্টগ্রামের শেখ মোরশেদ আনোয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন। সকালে গোলাম আযমের পক্ষে নতুন সাক্ষীদের তালিকা দেয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। পরে তিনি আগামী রবিবার পর্যন্ত সময় দেয়ার আহবান জানান। এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, আমরা আদেশ দিয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনে আপত্তি করেনি। যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আপনারাও সময় পাবেন। এছাড়া সাক্ষী হাজিরের জন্য আপনাদের সময় দেয়া হয়েছে। প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণে অনেকদিন সময় দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গোলাম আযমের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন শুধু গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্তকৃত) আব্দুল্লাহহিল আমান আজমী। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু সাংবাদিকদের বলেন, গোলাম আযমের মামলায় আসামিপক্ষের পরবর্তী সাফাই সাক্ষী হাজিরের তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু গতকাল তারা সাক্ষী হাজির করতে না পারায় ট্রাইব্যুনাল রবিবার থেকে যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আসামিপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে নতুন করে একটি আবেদন করেছেন। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে শুনানি করে আবেদনটি খারিজ করে দেয়ায় আসামিপক্ষে সাক্ষ্য গ্রহণের কোন সুযোগ নেই। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে সাফাই সাক্ষী সংক্রান্ত দু’টি আবেদন দাখিল করা হয়েছিল। আবেদন দুটি হলো, গোলাম আযমের পক্ষে বিদেশি দুই সাফাই সাক্ষীর হাজির করতে নির্দিষ্ট তারিখ চেয়ে আবেদন এবং অন্যান্য সাফাই সাক্ষী হাজিরের জন্য সময় চেয়ে আবেদন। ট্রাইব্যুনালে নতুন সাক্ষীদের তালিকা দেয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিলাম কিন্তু ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করেননি। সাফাই সাক্ষীদের ভয়-ভীতি দেখানো হয়েছে। সাক্ষীরা ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন। আবেদন গ্রহণ না করে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের এ আদেশে আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবো। উল্লেখ্য, গত বছরের ১ জুলাই থেকে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় । ‘বাবা ও ভাইকে চিনিয়ে দেন সালাহউদ্দিন কাদের’ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি’র বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২০তম সাক্ষী চট্টগ্রামের শেখ মোরশেদ আনোয়ার গতকাল সাক্ষ্য দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমার বাবা ও ভাইকে সালাহউদ্দিন কাদের পাকিস্তানি সেনাদের দেখিয়ে দিয়েছিল বলেই পাকিস্তানি সেনারা তাদের হত্যা করে। পরে ওই সাক্ষীকে জেরা করেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম রবিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। জবানবন্দিতে ২০তম সাক্ষী মোরশেদ আনোয়ার (৬২) বলেন, ২৫ মার্চ লাল দীঘি ময়দানে আমার বাবা শহীদ শেখ মোজাফ্ফর ছাত্র-জনতার উদ্দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এপ্রিলের প্রথমদিকে, রাউজান থেকে শহরে ফেরার পথে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, তার সঙ্গী ও পাকিস্তানি সেনারা আমার বাবা শেখ মোজাফ্ফর ও ভাই শেখ আলমগীরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পাশের একটি আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এরপর বাবা আর ভাই ফিরে আসেননি। রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান দিচ্ছেন এক নারী —ইত্তেফাক গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন করে —সোহেল রেজা