প্রতিবাদের অগ্নিশিখায় কাটুক অন্ধকার

আগুনের পরশমণির ছোঁয়ার নতুন করে জেগে উঠল বাংলাদেশ। কোটিকণ্ঠে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা আর রাজাকারের প্রতি ঘৃণা প্রতিবাদে রূপ নিয়ে জানালো যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি। সবার হাতে জ্বলে উঠলো মোমবাতি। সারাদেশ সেই মোমের আলোয় জ্বলে উঠলো, জেগে উঠলো প্রাণ। ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ, আড়াই লাখ সম্ভ্রম হারানো মা-বোনের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ, স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়দাতা জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের হাতে নিহত যত মানুষ, তাদের প্রত্যেককে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করলো জাতি। প্রজন্ম চত্বর থেকে ‘শাহবাগ আন্দোলন’ সেই শ্রদ্ধা-শোককে শক্তিতে পরিণত করার ডাক পাঠালো। আলোর শিখায় সে ডাক পৌঁছে গেল বাংলাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি বাঙালির কাছে। নদীর সে াতের মতই আলোর সে াত বয়ে গেল শাহবাগ চত্বর থেকে। সেই স্রোত ছড়িয়ে পড়লো সারাদেশে। মোমের শিখা হাতে শপথ নিলেন সবাই এ আন্দোলন সফল না করে ঘরে ফিরবে না কেউ। বিকাল থেকেই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না শাহবাগ চত্বরে। যত দিন গড়াচ্ছে ততই মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আলোর স্রোতে ভেসে গেল সারাদেশ- সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, রাজধানী থেকে অজপাড়াগাঁ। মোমবাতির শিখায় বৃদ্ধ, শিশু, তরুণ সবাই মিলেমিশে একাকার। বিন্দু বিন্দু আলোকশিখা মিলিত হয়ে এক প্রাণ হয়ে জ্বলে উঠলো পুরো বাংলাদেশে। সারাদেশই প্রতিটি বাড়ির সামনে, রাস্তায়, ছাদে, মোড়ে মোড়ে শাহবাগ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানানো সমাবেশে জ্বলে উঠেছিল আলো। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রজ্বলিত মোমের শিখা তীব্র প্রতিবাদ হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানালো দিকে দিকে। ‘ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রী এখানে থেমো না’। ক্লান্তি ভুলে গেছে তরুণরা। তাদের আন্দোলন জোড়ালো হচ্ছে দিন দিন। সংবিধান সংশোধন, ফাঁসির রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেয়া হয় শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে। এ সময় ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনে আছেন। তারা স্বেচ্ছায় শাহবাগে আসছেন। তারা মনে করছেন, এই আন্দোলন বন্ধ হলে লক্ষ্য পূরণ নাও হতে পারে। এই আন্দোলন কত দিন চলবে, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন।’ এদিকে বিকাল থেকেই প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে সমবেত হতে থাকেন আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। আর মূল মঞ্চে একে একে এসে পৌঁছান তরুণদের এ আন্দোলনে প্রেরণা হিসাবে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিতে থাকা নাসির উদ্দিন ইউসুফ, মুনতাসীর মামুন, মান্নান হীরা, শিমুল ইউসুফ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, গিয়াসউদ্দিন সেলিমসহ অনেকে। এসময় শ্লোগানে শ্লোগানে আন্দোলনে শরিক হওয়া মানুষকে উদ্বেল করে তোলেন লাকী আক্তার। শাহবাগ আন্দোলনের নেতা ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, সংবিধান সংশোধন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আইনটি ত্রুটিমুক্ত করলে আমাদের আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি পূরণ হবে। অন্য দাবিগুলোও যেন দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়িত হয় -সে লক্ষ্যে আন্দোলন চলবে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের গতকাল ছিল ১০ম দিন। গতকাল ভোরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হওয়ায় ‘আগুন ঝরা ফাগুনের’ এ ভালোবাসার দিনেও সবাই ছিলেন আন্দোলনে সোচ্চার। এবারের ভালোবাসা দিবসটি ছিল মায়ের জন্য মাতৃভূমির জন্য। শাহবাগে মুহুর্মুহু শ্লোগান ওঠে ‘তোমার আমার ঠিকানা- পদ্মা মেঘনা যমুনা’; ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’; ‘সাম্প্রদায়িকতার আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’; ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’; ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা পাকিস্তানেই ফিরে যা’; ‘বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াত-শিবিরের ঠাঁই নাই’ প্রভৃতি। শ্লোগানে শ্লোগানে কেঁপে ওঠে প্রজন্ম চত্বর। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতাদের সংহতি শাহবাগে চলমান আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতারা। গতকাল শাহবাগে এসে তারা আন্দোলনের প্রতি সংহতি এবং সমর্থন জানান। আন্দোলনরতদের অভিনন্দন ও উত্সাহ জানান তারা। তারা বুকে জড়িয়ে নেন প্রজন্ম চত্বরের অনেক সংগঠককে। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, তরুণরা প্রমাণ করেছে, আমরা সময়ের প্রয়োজনে বারবার গর্জে উঠতে পারি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতিবাদী কণ্ঠ চিরজাগ্রত। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর এমন জাগরণ আর দেখা যায়নি। এটি সত্যিকারের গণজাগরণ। তরুণদের অভিনন্দন। তাদের সাফল্য আসবেই। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। আইনি প্রক্রিয়ার এর চূড়ান্ত ফয়সালা হবেই। রাকসু’র সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের লালিত প্রত্যাশা এ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্যদিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধ হবে। এ তরুণরা এখনকার সময়ের নেতা। তাদের সালাম। আন্দোলনের সাফল্য কামনা করি। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অন্যান্যের মধ্যে প্রজন্ম চত্বরে এসে উপস্থিত হন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সাবেক ছাত্রনেতা মুনিরুদ্দিন আহমেদ, আনোয়ারুল হক, ডাকসুর সাবেক জিএস মুশতাক হোসেন, শাহে আলম, শফি আহমেদ, আব্দুস সাত্তার খান, রানা হামিদ, বজলুর রশিদ ফিরোজ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, রাজেকুজ্জামান রতন, মোস্তফা ফিরোজ, মঈনউদ্দিন হোসেন চৌধুরী, মোস্তফা ব্যানার্জী, এসএম কামাল হোসেন, রাজু আহমেদ, কাফি রতন, ড. বীণা শিকদার, সাইফুল হক, হিমাংশু সিংহ, শওকত রায়হান, ওবায়দুল হাসান, ছাত্তার খান প্রমুখ। রাজাকার বাবাকে প্রত্যাখ্যান করল মেয়ে গতকাল বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে গণজাগরণ মঞ্চে আসেন এক রাজাকারের মেয়ে এ্যাডভোকেট নাজমা। তিনি তার বাবাকে প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিলে উপস্থিত জনতা শ্লোগানে ও হাত তালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ্যাডভোকেট নাজমা বলেন, আমি রাজাকারের ফাঁসি চাই। আমার ভাই-বোনের অভাব নেই। প্রজন্ম চত্বরে যারা আছে তারা আমার ভাই-বোন। রাজাকার কারো বাবা হতে পারে না। প্রতিবাদী জনতাকে বিচার দিলাম রওশনারা বেগম নামের এক নারী মুক্তিযোদ্ধা গণজাগরণ চত্বরে এসে সংহতি জানিয়ে বলেন, ‘একাত্তরে রাজাকাররা আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। আমাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালায়। কিন্তু আমি তার কোনো বিচার পাইনি। আমি অনেক জায়গায় এর বিচার চেয়েছি। কেউ আমার কথা শোনেনি। তাই আজ এই গণজাগরণের প্রতিবাদী জনতার কাছে বিচার দিলাম।’ মুন্সিগঞ্জের এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আমার দুই সন্তান আজ এতিম। আমার বোনের স্বামী ছিল রাজাকার। সে আমাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল।’ আশার আলো দেখছেন মুক্তিযোদ্ধা-বীরাঙ্গনারা ‘গণজাগরণের’ তরুণরা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন শাহবাগে আসা মুক্তিযোদ্ধারা। শাহবাগ থেকে চেতনার যে আগুন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে আলোকিত হবে গোটা দেশ ও সমাজ। সমাবেশে এসে সংহতি জানিয়ে বীরাঙ্গনা রওশন আরা বলেন, ‘একাত্তরে আমার স্বামীরে ধইরা নিয়া গেছে রাজাকাররা। আমার সব শেষ করছে। সংসার নির্বংশ করছে। বাংলার মাটিতে রাজাকারদের বিচার হবেই, হতেই হবে।’ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু দুপুরে বলেন, আজকের দিনে তরুণদের প্রত্যয় হোক, ‘ভালোবাসি দেশ। ভালোবাসি মানুষ’। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সন্ধ্যায় যে মোমবাতি প্রজ্বলিত হবে তাতে আলোকিত হবে গোটা বাংলাদেশ। তরুণদের প্রজ্বলিত আলোয় আলোকিত হবে বাংলাদেশ। এ নতুন বাংলাদেশকে কেউ ‘দাবায়ে’ রাখতে পারবে না। সমর্থন-সংহতিতে উত্সাহ ‘গণজাগরণের’ শুরু থেকেই সমর্থন জানিয়ে আসছেন দেশের সর্বস্তরের, সকল বয়স ও পেশার মানুষ। এ সমর্থন আন্দোলন চালিয়ে যেতে উত্সাহ জোগাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠকরা। দুপুর আড়াইটার দিকে বন্টন করা হয় সিরাজগঞ্জ থেকে আনা চার মণ চালের গুঁড়ার পিঠা। পিঠা পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন উপস্থিত জনতা। গতকাল গণজাগরণে সংহতি জানাতে এসে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, আমরা যে শেষ হয়ে যাইনি, তার প্রমাণ এ গণজাগরণ। তরুণদের জয় হবেই। অন্যান্যের মধ্যে সংহতি জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মির্জা জলিল, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান আকন্দ, অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা, সংগীত শিল্পী হায়দার হোসেন, নাট্যপরিচালক বদরুল আনাম সৌদ। শিল্পী হায়দার মঞ্চে গান গাইলেন ‘বিচারপতি বিচার করো, সত্য ন্যায়ের বিচার চাই’। তার সাথে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত জনতা। লাকীকে উদ্দেশ করে নারী মুক্তিযোদ্ধার কবিতা শাহবাগে চলমান আন্দোলনে ‘শ্লোগানকন্যা’ হিসাবে খ্যাতি পেয়েছেন লাকী আক্তার। সেই লাকী আক্তারের উদ্দেশে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন নারী মুক্তিযোদ্ধা সাদিয়া জামান। দুপুর সোয়া দুইটার দিকে গণজাগরণ মঞ্চে তিনি ‘বসন্ত দিনের স্বপ্ন কুমারী’ নামের কবিতাটি আবৃত্তি করেন। কবিতাটি তারই লেখা। সাদিয়া জামান বলেন, লাকী আক্তার এই সময়ের ‘অগ্নিকন্যা’। তার শ্লোগানে জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। লাকি আমাদের অহংকার। তাকে দেখলে আমার সেই একাত্তরের কথা মনে পড়ে। তখন আমরাও সংগ্রামের মধ্যে ছিলাম। তাই লাকীকে উত্সর্গ করে কবিতা লিখেছি। এর আগে দুপুর দুইটার দিকে মঞ্চে আসেন লাকী আক্তার। গ্রিস প্রবাসীরাও প্রজন্ম চত্বরে গণজাগরণে সাড়া দিয়েছেন প্রবাসীরাও। প্রবাসে তারা প্রজন্ম চত্বরের দাবির সমর্থনে নানা কর্মসূচি ইতিমধ্যেই পালন করেছেন। গতকাল সকালে গ্রিস প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটি ব্যানার নিয়ে শাহবাগে এসে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। সকল রাজাকারের ফাঁসি দাবি করেন তারা। গ্রিস থেকে আসা রেজাউল হক আজাদ জানান, কয়েকদিন আগে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। এরপর তিনি গ্রিসে বাংলাদেশিদের মধ্যে খোঁজ করেন, কারা দেশে এসেছে। সকলে মিলে গতকাল এসে সংহতি জানান। গ্রিসেও সংহতি জানিয়ে একই ধরনের সমাবেশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। ক্রীড়া সংগঠনের সংহতি তরুণদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন এবং সাবেক ও বর্তমান তারকা খেলোয়াড়রা। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হারুন-উর-রশিদের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে শাহবাগের আন্দোলনস্থলে আসেন। সংহতি জানিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, যারা আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তাদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে ক্রীড়াঙ্গনের সবাই একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সরকারের উচিত, দ্রুত তাদের দাবি বাস্তবায়ন করা। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি বাদল রায়, ক্রীড়া পরিবারের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাবুল, কুস্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান, জিমন্যাস্টিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ রহমান বাবুল, টেনিস ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আবু সালেহ মো. ফজলে রাব্বি খান, সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রফিজ উদ্দিন, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম, ফুটবল তারকা শেখ আসলাম, আব্দুল গাফ্ফার, ক্রিকেটার গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনু, শুটিং তারকা সাবরিনা সুলতানা। এছাড়াও হ্যান্ডবল ফেডারেশন, তায়কোয়ান্ডো ফেডারেশন, দাবা ফেডারেশন, কারাতে ফেডারেশন, কাবাডি ফেডারেশন, শুটিং ফেডারেশন, ভলিবল ফেডারেশন, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, হকি ফেডারেশন, বাস্কেট বল ফেডারেশন, ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া ফেডারেশন, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজাকার পেটাতে বিশাল ঝাড়ু রাজাকারদের ঝাড়ু পেটা করতে ৪০ ফুট লম্বার ঝাঁটা স্থান পেয়েছে গণজাগরণ চত্বরে। চারুকলার সামনে বিশাল আকারের এ ঝাড়ুটি শোভা পাচ্ছে। ঝাড়ুটি রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ঝাড়ুর এক অংশে লেখা রয়েছে, ‘মঙ্গল আনো দেশের-দশের, রাজাকারের গুষ্টি ধরে, জোরে জোরে ঝাঁটা মারো।’ রাজাকার পেটানোর জন্য বিশাল আকারের ঝাড়ুটিতে রয়েছে নান্দনিকতাও। এরই মধ্যে আন্দোলনকারীদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে ঝাড়ুটি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্সবের আমেজ গণজাগরণের প্রাণশক্তি হিসেবে ইতিমধ্যে নিজেদের প্রমাণ করেছেন দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সূচনা দিবস এবং ভ্যালেন্টাইন ডে’তে তরুণরা যেন আরো উজ্জীবিত হয়ে প্রজন্ম চত্বরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিলেন। গানে-শ্লোগানে-বক্তৃতায়-কবিতা আবৃত্তি, নাটিকা মঞ্চস্থ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনসহ নানা আয়োজনে তারা মাতিয়ে রাখলেন ‘প্রজন্ম চত্বর’। প্রতিবাদী গানের সাথে যোগ হয়েছে ভালোবাসার সুর। বুধবার রাতের শ্লোগানের রেশ না কাটতেই গতকাল ভোরের আলো প্রস্ফুটিত হওয়ার সাথে সাথেই জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে আন্দোলনের দশম দিনের শ্লোগান ধরলেন আন্দোলনরতরা। এরপর বসন্তের দ্বিতীয় দিনের রোদ যত প্রখর হলো ততোই মানুষের ভিড় বাড়ল শাহবাগে। সারাদিনমান শ্লোগানে প্রকম্পিত করলেন প্রজন্ম চত্বর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পাশাপাশি শাহবাগে এসে সমবেত হন বুয়েট, এআইইউবি ইউনিভার্সিটি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, মিরপুর গার্লস কলেজ, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ, উদয়ন স্কুল এন্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া উত্তরা লেডিস ক্লাব, ঢাকা শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আন্দোলনের সাথে সংহতি জানায়। প্রদীপ জ্বালিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাত্মতা প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শাহবাগ আন্দোলনের প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও গণভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। কবিদের আন্দোলনে একাত্মতা রাজধানীর শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরসহ সারাদেশে বিভিন্ন বয়সের লাখো মানুষ গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের ঘাতকচক্রের হাতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকরা এসময় অফিস ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন। জাতীয় কবিতা পরিষদের উদ্যোগে গতকাল রাতে শাহবাগের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন কবিরা। কবিরা তাদের বক্তৃতায় অবিলম্বে কাদের মোল্ল¬াসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবি কাজী নজরুলের মাজার এবং মাজার প্রাঙ্গণে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। কবিরা এই গণজাগরণের সাথে সংহতিও প্রকাশ করেন। সন্ধ্যায় মোমবাতির আলোয় আলোয় কবির মাজার প্রাঙ্গণে আলোকিত হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কবি নজরুলের মাজার প্রাঙ্গণে স্থাপিত মঞ্চে ও এর আশপাশে কবিরা দলে দলে এসে একত্রিত হন। তারা মোমবাতি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে মাজারে প্রবেশ করে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। এরপর জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি হাবিবুল্ল¬াহ সিরাজীর সভাপতিত্বে গণজাগরণের আলোচনা এবং কবিতা পাঠ শুরু হয়। তারা আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে কবিতা পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন। কবি বেলাল চৌধুরী, কবি মহাদেব সাহা, ঢাবি’র সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর রশিদ, কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, কবি হালিম আজাদ, কবি নূহ-উল-আলম লেনিন, কবি আসলাম সানি, কবি তারিক সুজাত, কবি কাজী রোজী, কবি শাহাদাত্ নিপু, কবি হানিফ খান প্রমুখ।