রাজশাহীতে পুলিশের ওপর জামায়াত-শিবিরের হামলা
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২৩:০২
রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালির শামসাদিপুর এবং রাজপাড়া থানার দাশপুকুর ও ডিঙ্গাডোবায় এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা পুলিশের উপর ইটপাটকেল ও হাত বোমা নিক্ষেপ ছাড়াও গুলিবর্ষণ করেছে। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের ঘন্টাব্যাপী ব্যাপক সংঘর্ষে মতিহার থানার ওসিসহ চার পুলিশ, ফটোসাংবাদিক ও পথচারিসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহত পুলিশের সদস্যদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন।
মতিহার থানার ওসি এসএম আব্দুস সোবহান বলেন, সকাল ১০ টার দিকে জামায়াত-শিবিরের কয়েকশ’ নেতাকর্মী ‘উলামায়ে মাশায়েখ পরিষদের ব্যানারে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে অবরোধ করে। এ খবর পেয়ে নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ সেখানে গেলে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা তাদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। জবাবে পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে লাঠিচাজর্, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়লে উভয় পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। বেলা ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষের কাটাখালি এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ছাড়াও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ৪০-৪৫টি গুলিবর্ষণ এবং ৩০-৩৫টি হাত বোমার (ককটেল) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশকে হটিয়ে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। সংঘর্ষে মতিহার থানার ওসিসহ চার পুলিশ কনস্টেবল এবং ফটোসাংবাদিক কাবিল হোসেন, পথচারি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ প্রায় অর্ধশত আহত হন। বেলা ১১টার দিকে পুলিশের জলকামান এবং অ্যাপাচে (নিরাপদে রাবার বুলেট, টিয়ারসেল, গুলি করার উপযোগী গাড়ি) গাড়ি পৌঁছালে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ কাটাখালি বাজার ও আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করে।
অন্যদিকে রাজপাড়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, একই দাবিতে ‘উলামা মাশায়েখ পরিষদের ব্যানারে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা নগরীর দাশপুকুর ও ডিঙ্গাডোবা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে সিটি বাইপাস সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ এগিয়ে গেলে তারা পুলিশের উপর হাত বোমা নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক মহসিন আলম সাইমুম দাবি করেন, তারা পুলিশের উপর হামলা করেননি। বরং পুলিশই তাদের শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে ‘উলামা মাশায়েখ পরিষদ’ বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিল। এতে পুলিশের হামলায় ছাত্রশিবিরের চারজন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার এস এম মনির-উজ-জামান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার সন্দেহে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।