বিশ্ববাজারে মন্দা সত্ত্বেও রফতানিতে
গতির সঞ্চার
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৭:৩৯
উন্নত-উন্নয়নশীল-স্বল্পোন্নত যে কোনো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে রফতানি আয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানির চেয়ে রফতানি আয় যদি কম হয় তাহলে বাণিজ্য ঘাটতি হয়। সরকারকে রাজস্ব আয় থেকে বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটাতে হয়। কল্যাণধর্মী রাষ্ট্রের করণীয়গুলো পূরণ করতে গিয়ে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি দেখা দেয়। প্রতিশ্রুত জনসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে সরকারকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ধার নিতে হয়। প্রতিবছর বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বাড়তে থাকলে সরকার ঋণ পরিশোধের পরিবর্তে ঋণের আকার স্ফীত হয়। এক সময় তা অর্থনীতির স্থিতিস্থাপক সীমা ছাড়িয়ে যায়। আর্থিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। এক সময় তা সংকটে রূপ নেয়। ইউরোপ, বিশেষ করে ইউরোজোন ও যুক্তরাষ্ট্র ২০০৮ সাল থেকে এমন আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যে আছে। ফলে অর্থনীতিগুলো মন্দার কবলে পড়েছে। দেশগুলোতে বেকারত্ব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। ভোক্তা চাহিদা কমেছে। আমদানি ও রফতানি কমেছে। ঋণের বোঝা হ্রাসে সরকারগুলো বাজেট ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। তারপরও ঋণের চাপ কমছে না। এই ব্যয় সংকোচন নিয়েও প্রচণ্ড বিরোধিতা আছে। সরকার চাইলেই তা করতে পারছে না। কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাবে বলে জনগণ এর বিরোধিতা করছে। গ্রীস, ইটালী, স্পেন, পর্তুগালসহ অনেক দেশে জনগণ আন্দোলন করেছে। ঋণের ভারে জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্রও। প্রেসিডেন্ট ওবামা কংগ্রেসে গ্রহণযোগ্য ব্যয় হ্রাস পরিকল্পনা দিতে পারছেন না। কারণ প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরা সরকারের ফর্মুলা মানছেন না। এই ঋণ সঙ্কটের কারণে অনেক দেশের অর্থনীতিই সমস্যায় আছে। ফলে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বের দেয়া ২০১৩ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পূর্বাভাস নিম্নমুখী সংশোধন করেছে।
আইএমএফ-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০১৩ সালে বিশ্ব ৪ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। এটি আগের দেয়া পূর্বাভাস থেকে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কম। উন্নত দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। আর ইউরোজোনে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হবে। ব্রিটেনের প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র ১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ হবে। আশার কথা হচ্ছে, সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও তা ২০১২ থেকে ভালো হবে। সংস্থাটির হিসাবমতে ২০১২ সালে বিশ্ব ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী বিশ্ব ২০১৩ সালে ২ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। গত জুনে সংস্থাটির দেয়া পূর্বাভাসে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলা হয়েছিল। তাদের হিসাব অনুযায়ী ২০১২ সালে বিশ্ব ২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দুটি সংস্থার পূর্বাভাসে গরমিল থাকলেও উভয় প্রতিষ্ঠানই বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোজোনের অর্থনীতি প্রত্যাশা অনুযায়ী এগুতে পারেনি। উভয় প্রতিষ্ঠানই ইউরোজোনে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হবে বলেছে। মন্দা অব্যাহত থাকবে। ফলে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস নিম্নমুখী করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের চমক জাগানো দুই উদীয়মান অর্থনীতি চীন ও ভারতের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসও নিম্নমুখী করেছে। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী চীন ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ভারত ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। বাংলাদেশ ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যদিও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রশংসা করেছে। অনেকে বলেছে, দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ পঞ্চম শীর্ষ দেশ। বিশ্বব্যাংক বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে যে অল্প কয়েকটি দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন উভয়টিতে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অগ্রগণ্য। এটি এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের এক বিরল অনুপ্রেরণা।
যুক্তরাষ্ট্রে গত ত্রৈমাসিকে দশমিক এক শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ইউরোজোনে শূন্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। উন্নত দেশগুলোর চাহিদা ও আমদানি কমে যাওয়ায় তাদের পণ্যের যোগানদাতা প্রধানত উন্নয়নশীল বিশ্বের রফতানি প্রবৃদ্ধি কমেছে। অর্থনীতির গতি মন্থর হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলো এ হিসাব-নিকাশের বাইরে। কারণ তারা মূলত কাঁচামাল রফতানি করে। ফিনিশড পণ্য উত্পাদনের সামর্থ্য তাদের নেই। এজন্যই তারা দরিদ্র দেশ। এসব দেশে রফতানির তুলনায় আমদানি বেশি হয়। কারণ বেশি বেশি খাদ্যপণ্য আমদানি করতে হয়। এ অর্থ তারা সুদবিহীন বা ন্যূনতম সুদে ঋণ আনে। উন্নত দেশ ও দাতা সংস্থাগুলো দরিদ্র দেশ হিসেবে এ বদান্যতা দেখায়। আবার অনেক বছর পরে যখন ঋণ পরিশোধ করতে পারে না তখন সুদসহ ঋণ মওকুফ করে দেয়। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থা এমনই হওয়ার কথা। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টো। সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোর গতিধারা উন্নত বিশ্বের মতো। বাংলাদেশে প্রতিবছর বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি থাকে। রফতানি আয় দিয়ে গড়ে আমদানি ব্যয়ের ৬৭ শতাংশ মেটানো যায়। কিন্তু বাংলাদেশ এ ঘাটতি পূরণের জন্য কারো কাছে হাত পাতে না। বরং নিজেই আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছে। পণ্য রফতানিতে পিছিয়ে থাকলেও জনশক্তি রফতানি দিয়ে ঘাটতি পূরণ করে উদ্বৃত্ত থাকছে। তাই প্রতি বছর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। এখন তা ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি। বাংলাদেশের রিজার্ভের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড। এদিকে রেমিটেন্স প্রাপ্তিতেও ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১২ সালে ১ হাজার ৪১৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে। আগামী বছরগুলো রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধি আরো বাড়বে। কারণ সরকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারটি উন্মুক্ত করেছে। হংকং ও থাইল্যান্ডে জনশক্তি রফতানির নতুন সুযোগ হয়েছে। ঝিমিয়ে পড়া মধ্যপ্রাচ্যের বাজারগুলোও আবার চাঙ্গা করতে সমর্থ হয়েছে। রফতানি আয়েও দেশ চাঙ্গাভাব বজায় রেখেছে।
উন্নত দেশের মতোই বাংলাদেশের রফতানি আয়ের ৯৫ শতাংশই ফিনিশড পণ্য। কিন্তু বাজার মন্দার কারণে উন্নয়নশীল অনেক দেশের অর্থনীতি স্তিমিত হয়ে পড়লেও বাংলাদেশ থামেনি। ২০১১-১২ অর্থবছরে রফতানি প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা শৈথিল্য দেখা দিলেও চলতি অর্থবছরে আবার চাঙ্গা হচ্ছে। প্রতি মাসেই তা আরও ভালোর দিকে যাচ্ছে। সারণীগুলো থেকে তা স্পষ্ট হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাজার। মোট রফতানি আয়ের ২০ শতাংশ আসে দেশটি থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৭টি দেশেই বাংলাদেশ পণ্য রফতানি করে। তবে জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সই ইউরোপের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। দেশের মোট রফতানি আয়ের ৫৩ শতাংশ আসে ইইউ থেকে। এ আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে এ তিনটি দেশ থেকে। মন্দার কারণে এ তিনটি গন্তব্যে রফতানি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছেনি। সার্বিকভাবে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি তেমনভাবে বাড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২০০৯-এর তুলনায় ২০১০ সালে অনেক বেড়েছে। কিন্তু ২০১১ সালে খুব সামান্যই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অপরদিকে ইইউতে ভোক্তা চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি কমার পরও রফতানি প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে। যদিও ২০১২ সালে সেই প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে পারেনি। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি সামান্য বেড়েছে। তারপরও দেখা গেছে ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে রফতানিতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর প্রধান কারণ বাংলাদেশ নতুন বাজার সৃষ্টি করতে পেরেছে। কানাডা, জাপান, ভারত ও চীনের বাজারে রফতানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। সরকার এ চারটি বাজারেই আংশিক বা পুরোপুরি জিএসপি সুবিধা আদায় করেছে। রফতানিকারকরা এ শুল্ক রেয়াত সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেছে। রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ বিষয়টিও কাজে লেগেছে। সারণী-১ অনুযায়ী দেখা যায়, এসব বাজার থেকে রফতানির আয় ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১২ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে উদীয়মান বাজারগুলোতে রফতানি প্রায় ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যদিও মোট রফতানি আয়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশের রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি আশাব্যঞ্জক দিক। গত জানুয়ারি মাসের রফতানি আয়ে এটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে আগের অর্থবছরের একই বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হার প্রতি মাসেই বাড়ছে। রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রবৃদ্ধি ধারায় তেমন ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রায় দুই দশক ধরেই তৈরি পোশাক বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য। শ্রমিকের অভাব নেই। তাই শ্রমঘন শিল্পই সর্বাধিক লাভজনক। উন্নত দেশগুলোও এক সময় এ পলিসি বাস্তবায়ন করেছে। আজকের নিউইয়র্কের ব্রুকলিন একশ বছর আগে সাভারের মতোই ছিল। ব্রিটেনের ডান্ডি ও ম্যানচেস্টার ৫০ বছর আগেও নারায়ণগঞ্জের নিট পল্লীর মতো ছিল। তখন সেখানেও দুর্ঘটনা হতো। শ্রমিক মারা যেত। শ্রমিকের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন হতো। ধর্মঘট হতো। তাদের অর্থনীতি উন্নত হয়েছে। শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। এত বেশি মজুরি দিয়ে পোশাক বানিয়ে মুক্ত বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই দেশগুলো শ্রমঘন শিল্প থেকে ধীরে ধীরে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ শিল্পে উত্তোরণ ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের এখনও সেই সামর্থ্য হয়নি। তাই দেশটির প্রধান সম্পদ জনশক্তিকে ব্যবহার করেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এটাই টেকসই কৌশল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বিগত চার বছর ধরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও কৃষি জমি হ্রাস সত্ত্বেও দেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। জনশক্তির উত্পাদনশীলতা বেড়েছে। তাই গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ অর্জন সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। দারিদ্র্য দ্রুত কমছে। মানুষের আয় বাড়ছে। অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ফলে মজুরি বাড়ছে। অর্থনীতি সহনীয়ভাবে এগিয়ে গেলে মজুরিও ধীরে ধীরে বাড়বে। শ্রমঘন থেকে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পখাত গড়ে উঠবে। তার কিছু আভাস ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে। ঔষধ, কৃষিজাত পণ্য ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক, সিরামিকস, ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী প্রভৃতির রফতানি দ্রুতহারে বাড়ছে। এসবই প্রযুক্তিনির্ভর ম্যানুফ্যাকচারিং পণ্য। যদিও রফতানিতে শ্রমঘন পণ্যেই একচেটিয়া দাপট বিরাজ করছে।
সারণী-২ অনুযায়ী তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষিপণ্যের রয়তানি প্রতি বছরই বাড়ছে। নিট পোশাকের প্রধান বাজার ইইউতে বাজার চাহিদা কমে যাওয়ায় ২০১২ সালে নিট পোশাকে প্রবৃদ্ধি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি কমে যাওয়ায় ২০১১ সালে ওভেন পোশাকের রফতানি কমে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করায় ২০১২ সালে তা আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। চলতি অর্থবছর অগ্রসরের সাথে সাথে রফতানি প্রবৃদ্ধি বাড়ার এটিও একটি কারণ।
দেশের রফতানির এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারের প্রণোদনা ও সহায়ক ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে। বেসরকারি খাতকে আরও তত্পর হতে হবে। মুক্ত প্রতিযোগিতা টিকে থাকার লক্ষ্যে উত্পাদনশীলতা বাড়াতে হবে। নিয়মিত বাজার ও পণ্য গবেষণা করতে হবে। সেই অনুযায়ী পণ্য ও পণ্যের ডিজাইন পরিবর্তন করতে হবে। প্রতিযোগী দেশ ও আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তত্পর থাকতে হবে। জনগণকে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় থাকতে হবে। সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যে সকলকে সচেষ্ট হতে হবে। দেশের অগ্রগতির যে ধারা সূচিত হয়েছে তা এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশ শীঘ্রই উন্নয়নশীল দেশের স্তরে পৌঁছতে পারবে।
সারণী-১: দেশভিত্তিক অর্ধবছরের রফতানি আয়ের
তুলনামূলক চিত্র (কোটি ডলার)
দেশ জুলাই-ডিসেম্বর জুলাই-ডিসেম্বর জুলাই-ডিসেম্বর জুলাই-ডিসেম্বর ২০১২ ২০১১ ২০১০ ২০০৯
যুক্তরাষ্ট্র ২৪৮.৩ ২৪৩.২ ২৪২.৬ ১৭২.০
জার্মানি ১৮৪.৫ ১৮১.৮ ১৪৬.৫ ১০০.৫
ফ্রান্স ৭০.৭ ৭০.১ ৬৭.৩ ৪৭.৭
ব্রিটেন ১৩০.২ ১১৫.৩ ৯০.৯ ৭০.৯
কানাডা ৫৩.১ ৪৬.৩ ৪৩.০ ৩০.০
জাপান ৩৪.০ ২৯.১ ১৮.৩ ১৩.৯
ভারত ২৬.৭ ২৪.৭ ২১.৯ ১৮.১
চীন ২২.৩ ১৯.৪ ১৪.৪ ৭.০
অন্যান্য ৪৯০.২ ৪৪৭.৬ ৩৮১.৭ ২৬৭.৮
মোট ১,২৬০.০ ১,১৭৭.৫ ১,০২৬.৬ ৭২৭.৯
প্রবৃদ্ধি (%) ৭.০১ ১৪.৭ ৪১.০৪ ৯.৯
সারণী-২: প্রধান প্রধান পণ্যের অর্ধবছরের রফতানি আয়ের
তুলনামূলক চিত্র (কোটি ডলার)
পণ্য জুলাই-ডিসেম্বর জুলাই-ডিসেম্বর জুলাই-ডিসেম্বর জুলাই-ডিসেম্বর
২০১২ ২০১১ ২০১০ ২০০৯
নিট পোশাক ৪৯৭.৬ ৪৭৯.২ ৪৩১.২ ৩৭০.২
ওভেন পোশাক ৪৯৭.১ ৪৪৫.৭ ৩৬৩.৭ ৩৪৫.১
পাট ও পাটজাত পণ্য ৫০.২ ৪৭.৭ ৫৪.৯ ৪৩.৬
হিমায়িত খাদ্য ২৯.০ ৩৬.৩ ৩৩.১ ২৯.৪
কৃষি পণ্য ২৫.০ ২০.৭ ১৭.২ ৯.৮