পা দিয়ে ছবি এঁকে প্রথম
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৭:৪২
ব্র্যাক আয়োজিত ‘চিত্র, গীতি, সুর ও ছন্দে বিকশিত হোক শৈশব’ শীর্ষক শ্লোগানে নাচ, গান, কবিতা, আবৃত্তি ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ‘দীপ শিখা- ২০১২’ এ সাথী খাতুন পা দিয়ে ছবি এঁকে আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও হরিজন গ্রুপের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে।
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
ছবির এই শিশুটির নাম সাথী খাতুন। বয়স প্রায় সাড়ে ৬ বছর। পবা উপজেলার মাঝিপাড়া গ্রামের জনৈক জাইদুর রহমান ও জামিরুননেছা দম্পতির মেয়ে। শিশুটির একটি হাত নেই। অপর হাতটিও অর্ধেক। তাই যে পা দিয়ে সে হাঁটে, সেই পা দিয়েই আবার লিখে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা তাকে দমাতে পারেনি। সে ব্র্যাক পরিচালিত পবা উপজেলার মাঝিগ্রাম প্রাইমারী স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। ব্র্যাক আয়োজিত ‘চিত্র, গীতি, সুর ও ছন্দে বিকশিত হোক শৈশব’ শীর্ষক শ্লোগানে নাচ, গান, কবিতা, আবৃত্তি ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ‘দীপ শিখা- ২০১২’ এ সাথী খাতুন পা দিয়ে ছবি এঁকে আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও হরিজন গ্রুপের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। প্রাইজমানি হিসাবে ব্র্যাক থেকে সে পেয়েছে ১৫ (পনের) হাজার টাকা। শিশু সাথী খাতুনের এই সাফল্যে তার নানি বাড়ি এলাকার সকলে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন।
জানা যায়, গত বছরের ৪ জুন রাজশাহী শিশু একাডেমিতে জেলা পর্যায়ের, ১৬ সেপ্টেম্বর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টার রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ের এবং গত ১১ জানুয়ারি ঢাকার ধানমন্ডির ‘রবীন্দ্র সরোবরে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতায় সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। শিশু, ১ম-২য়, ৩য়-৫ম এবং আদিবাসি, প্রতিবন্ধী ও হরিজন গ্রুপের এই প্রতিযোগিতায় স্কুল পর্যায়ে বাছাই, উপজেলা পর্যায়ে বাছাই, জেলা পর্যায়ে বাছাই, বিভাগীয় পর্যায়ে বাছাই শেষে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ব্র্যাকের রাজশাহী জেলার প্রতিনিধি একেএম জাহেদুল ইসলাম জানান, একে তো মেয়ে শিশু, তারপর আবার প্রতিবন্ধী। ফলে জন্মের পরই সাথীর বাবা জাইদুর রহমান তার মা জামিরুননেছাকে তালাক দেয়। এরপর প্রতিবন্ধী মেয়ে শিশু সাথীকে নিয়ে জামিরুননেছা মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেই সাথী বড় হতে থাকে। লেখাপড়ার প্রতি অধিক আগ্রহ থাকায় মা তাকে স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলে ভর্তি করে দেয়। এরপর থেকেই সাথী হাঁটা-চলায় ব্যবহূত দু’টি পায়ের একটি হাতের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার শুরু করে। এক পর্যায়ে পা দিয়ে লিখে, ছবি এঁকে সে সকলকে মুগ্ধ করে।
তিনি আরো জানান, আমাদের দেশে সাথীর মত বহু প্রতিবন্ধী রয়েছে যাদের মধ্যে লুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায় না। তাদের প্রতি আমরা যদি সদয় দৃষ্টি দেই তবে তারা পরিবারের বা দেশের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হবে। তিনি সকলকে প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসে লুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেয়ার আহবান জানান।