ব্যাংককে ভাজিরালংকর্নের অভিষেক শুরু হচ্ছে আজ

বিবিসি

থাইল্যান্ডের নতুন রাজার অভিষেক উপলক্ষে তিনদিনের ব্যাপক অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে আজ। রাজধানী ব্যাংককে হিন্দু ব্রাহ্মণ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অভিষেক শুরু হতে চলেছে। ২০১৬ সালে রাজা ভূমিবলের মৃত্যুর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকার হন পুত্র মহা ভাজিরালংকর্ন। বহুদিন পর থাইল্যান্ডের মানুষ এধরনের জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক অনুষ্ঠান দেখতে যাচ্ছে্। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তংথং চন্দ্রাংসু বলেন, এটি একটি বিশেষ অনুষ্ঠান যার মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ডের ইতিহাস, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, রাজপরিবারের সাথে জনগণের দৃঢ় বন্ধন ফুটে ওঠে। 

এই অভিষেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে পবিত্র জলের। থাইল্যান্ডের লোকালয়গুলো গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন নদীর পাড়ে। জলাশয়ের পাশে থাইল্যান্ডের নানা উত্সব হয়ে থাকে। অভিষেকের আগে বিশেষ সময়ে ১০০টি জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করা হয় তারপর সেগুলো প্রসিদ্ধ মন্দিরগুলোতে রাখা হয়। সবশেষে সেগুলো একত্রিত করা হয় প্রাচীন ওয়াতসুতহাত মন্দিরে। এই পানি ব্যবহার করা হয় দুটি কাজে। এই পানি দিয়ে নতুন রাজাকে গোসল করানো হয়। আটজন মানুষ রাজার শরীরে পানি ঢালবেন। তাদের মধ্যে এবার রাজার ছোটবোন এবং প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।

গোসলের পর নতুন রাজা হিরাখোচিত স্বর্ণের সিংহাসনে বসবেন। সিংহাসনটি ১৭৮২ সালে রাজা রামা-১ এর সময় নির্মিত। এর ওজন ৭ দশমিক ৩ কেজি। সিংহাসনে বসে রাজা প্রথম নির্দেশনা দেবেন। এরপর মূল রাজপ্রাসাদে একান্ত অনুষ্ঠানে রাজপরিবারের নারীরা রাজার চারপাশে থাকবেন। তাদের হাতে থাকবে বিড়াল, সাদা মোরগ, শান দেওয়ার পাথর, সবুজ লাউ, ধানের বীজ, মটরশুটি এবং তিল। থাইদের সংস্কার হচ্ছে বিড়াল ঘরে থাকলে খারাপ আত্মা সেখানে থাকতে পারে না। এরপর নতুন রাজার হাতে প্রাসাদের মালিক হিসেবে একটি স্বর্ণের চাবি দেওয়া হবে। বড় আনুষ্ঠানিকতাগুলোর পরে রাজা ব্যাংককের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন। এরপর প্রাসাদের বারান্দায় সাধারণ মানুষকে দেখা দেবেন।