ন্যাম হত্যাকাণ্ড :ভিয়েতনামি নারী হুংও ছাড়া পেলেন

বিবিসি

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সত্ ভাই কিম জং ন্যামকে হত্যার অভিযোগে আটক ভিয়েতনামি নারী ডন থি হুংকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশীয় কৌঁসুলিদের সঙ্গে সমঝোতার পর ন্যামকে ‘আঘাত করার’ একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন হুং। তুলনামূলক হালকা ওই অভিযোগে সাজা মিললেও, গ্রেফতারের পর থেকে কারাগারে থাকায় ৩০ বছর বয়সী এ নারীর দণ্ডের মেয়াদ কমে আসে। শুক্রবার তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। ন্যাম হত্যার অভিযোগে হুংয়ের সঙ্গে ২৬ বছর বয়সী ইন্দোনেশীয় নারী সিতি আইশাও গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০১৭ সালে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে এ দুই নারী ন্যামের মুখে বিষাক্ত তরল ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট মেখে দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ন্যামের মৃত্যু হয়। হুং ও আইশা শুরু থেকেই উত্তর কোরীয় নেতার সত্ ভাইকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদেরকে কৌশলে এ হত্যাকাণ্ডের অংশীদার করা হয়েছে এবং টেলিভিশনে কৌতুক অনুষ্ঠানের দৃশ্যায়ন মনে করে ওই কাজ করেছিলেন বলেও দাবি তাদের।

মার্চে আইশাকে ছেড়ে দেওয়ার পর হুংয়ের বিচার অব্যাহত থাকবে বলে মালয়েশিয়ার কৌঁসুলিরা জানালেও ভিয়েতনাম তাদের নাগরিককে ছাড়িয়ে নিতে কূটনীতিক চাপ বাড়াতে থাকে। মুক্তি পাওয়ার দিনই আইশা মালয়েশিয়া থেকে জাকার্তায় ফিরে যান। উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত সাবেক নেতা কিম জং ইলের বড় ছেলে কিম জং ন্যাম চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন ম্যাকাউয়ে থাকতেন। সিঙ্গাপুর ও চীনে তার যাতায়াত ছিল। ‘পরিবারতন্ত্রের উত্তরাধিকার’ নিয়ে প্রকাশ্যেই সমালোচনামুখর ছিলেন তিনি। ন্যামের সত্ভাই কিম জং উন ২০১১ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া শাসন করে আসছেন।

উত্তর কোরিয়ার পাঠানো এজেন্টরাই ন্যামকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের। অবশ্য মালয়েশিয়ার তদন্তকারীরা এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাননি। ১৯৯৭ সালে ন্যামের এক চাচাতো ভাইকেও দক্ষিণ কোরিয়ার ভেতরে হত্যা করা হয়। উত্তর কোরিয়ার দুই এজেন্ট তাকে গুলি করে হত্যা করে বলে ধারণা করা হলেও সেই হত্যাকারীদের কখনো ধরা যায়নি।