শহীদ মিনার নেই ক্ষেতলালের ৮২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা। এই বাংলা ভাষার জন্যই ১৯৫২ সালে বাংলার দামাল ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষাকে মায়ের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই গোটা বাঙ্গালী জাতি শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং নানা আয়োজনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ দিবসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। অথচ জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার ৮৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮২ টিতেই নেই কোন শহীদ মিনার। এমনকি উপজেলা সদরের দুটি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের কোন উদ্যোগ আজও গ্রহণ করা হয়নি। জানা গেছে, উপজেলায় ৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শুধুমাত্র মহব্বতপুর প্রথমিক বিদ্যালয়ে একটি শহীদ মিনার রয়েছে। মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৯টি, এর একটিতেও শহীদ মিনার নেই। মাদ্রাসার সংখ্যা ১৭টি, যার কোথাও নেই কোন শহীদ মিনার। উপজেলায় ৪ টি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধুমাত্র এস এ ডিগ্রি কলেজে রয়েছে একটি শহীদ মিনার। গত বছর কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে বাঁশ এবং মাটি দিয়ে একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে সেখানে পুষ্পমাল্য প্রদান করা হয়। এবারও একই ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করে সেখানেই পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সামছুল ইসলাম বলেন, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রাখলে কোমল-মতি শিশু এবং ছেলে-মেয়েরা এ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করবে। কিন্তু এ সংক্রান্ত বাজেট না থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয় না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুর ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া উচিত।