যুক্তরাজ্যের আদালতে বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের ৫০ সপ্তাহের কারাদণ্ডের সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। ২০১২ সালের জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে গত ১ মে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিচার বহির্ভূত আটকের বিষয়ে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং কমিটি অ্যাসাঞ্জের কারাদণ্ডকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের কারাগারে তাকে আটক রাখারও সমালোচনা করেছেন পাঁচ সদস্যের এই ওয়ার্কিং কমিটি।
যৌন হয়রানির দুই অভিযোগে ২০১০ সালের ২০ আগস্ট সুইডেন অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে দুইটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে একদিনের মাথায় প্রত্যাহার করে নেয়। তবে সে দেশে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ২০১০ সালের নভেম্বরে আবারও অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরোয়ানা জারি করা হয়। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তিনি যুক্তরাজ্যের আদালতে আত্মসমর্পণের ১০ দিনের মাথায় জামিন লাভ করেন। অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা আদালতে নতুন পরোয়ানাকে অবৈধ দাবি করলেও ২০১২ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যের আদালত একে বৈধ বলে রায় দেয়। রায়ের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য থেকে সুইডেনে বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে আশঙ্কায় জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে ২০১২ সালের জুন মাসে অ্যাসাঞ্জ ইকুয়েডর দূতাবাসে যান এবং রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। জামিন শর্ত ভঙ্গের দায়ে ১ মে তাকে ৫০ সপ্তাহের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার বিচার বহির্ভূত আটক বিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, এই কারাদণ্ড প্রয়োজনীয়তা ও সামঞ্জস্যতার বিপরীতধর্মী হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিবৃতিতে জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগকে ‘তুলনামূলক ছোটখাটো’ অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।